আদি পিতা আদম (আ.)-এর ৫ বৈশিষ্ট্য

আমাদের ইসলাম

Day

Night


পৃথিবীর প্রথম মানব আদম (আ.)। পৃথিবীর প্রথম নবীও তিনি। মহান আল্লাহ তাঁর মাধ্যমেই মানবজাতিকে দেন আশরাফুল মাখলুকাতের সম্মান, যার সম্পর্কে জিন ও ফেরেশতাদের ধারণা দেওয়ার জন্য তিনি আদম (আ.)-কে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য দেন। শুধু তা-ই নয়, এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাঁর এই প্রিয় নবীকে অন্য সব মানুষের থেকে আলাদা সম্মান দিয়েছেন। নিম্নে সেই বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো—

১. আল্লাহ তাঁকে নিজ দুই হাতে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি বললেন, হে ইবলিস! আমি যাকে আমার দুই হাতে সৃষ্টি করেছি, তার প্রতি সিজদাবনত হতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি ঔদ্ধত্য প্রকাশ করলে, না তুমি অধিকতর উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন?’ (সুরা : সোয়াদ, আয়াত : ৭৫)

২. আল্লাহ নিজে তাঁর মধ্যে রুহ ফুঁকে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন আমি তাকে সুষম করব এবং তাতে আমার রুহ সঞ্চার করব, তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।’ (সুরা : সোয়াদ, আয়াত : ৭২)

ওই আয়াত দ্বারা বোঝা যায় যে মহান আল্লাহ নিজে হজরত আদম (আ.)-এর মধ্যে রুহ ফুত্কার করেছিলেন। এ ছাড়া রাসুল (সা.)-এর হাদিসে এর সপক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়। আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন আদমের মধ্যে রুহ সঞ্চার করেন, অতঃপর রুহ যখন তাঁর মাথায় পৌঁছে তিনি হাঁচি দেন, তারপর বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন।’ আল্লাহ তাঁকে বলেন, ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৬১৬৫)

৩. আল্লাহ তাঁকে সব বস্তুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বলেন, ‘…এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩১)

৪. তাঁকে সিজদা করার জন্য আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর স্মরণ করুন, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল, সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৪)

৫. মানুষের মধ্যে একমাত্র আদম (আ.) মাটি থেকে সৃষ্ট। বাকি সবাই মাতা-পিতার মাধ্যমে সৃষ্ট। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সৃজন করেছেন উত্তমরূপে এবং কাদা থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। তারপর তিনি তার বংশ উৎপন্ন করেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস থেকে। পরে তিনি সেটাকে করেছেন সুঠাম এবং তাতে ফুঁকে দিয়েছেন তাঁর রুহ থেকে। আর তোমাদের দিয়েছেন কান, চোখ ও অন্তঃকরণ, তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ৭-৯)

এই আয়াতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন যে তিনি কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। এই পাঁচ বৈশিষ্ট্য অন্য মানুষের মধ্যে দেখা যায় না। সূত্র: কালের কণ্ঠ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.