আমাদের পতাকা, আমাদের অহংকার

দেশের খবর হক কথা

আমিরুল ইসলাম

ডিসেম্বর মাস এলেই আমাদের হৃদয়ে জাগে নতুন ভাবে  বিজয়ের চেতনা। আমাদের বিজয়ের চেতনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাল-সবুজের পতাকা । যে পতাকা আমাদের বিজয়ের কথা বলে, স্বাধীনতার নব চেতনা জাগিয়ে তোলে।  আকারে, মাপে কেমন হবে আমাদের চেতনার লাল সবুজ পতাকাটি। কোথায়? কীভাবে? আমরা জাতীয় পতাকার ব্যবহার করবো তার জন্য রয়ে আমাদের দেশের সংবিধানিক বিধিমালা। অনেকেই হয়তো তা জানে না বা জেনেও অনেকে সেই বিধি মালা মানে না। এমনটি হওয়া মোটেও উচিত নয়। জাতীয় পতাকা জাতীয় প্রতিক। আমরা তার বিধিমালা জেনেই যথাযথ সম্মানের সাথে জাতীয় পতাকা ব্যবহার ও উত্তোলন করবো।

কেমন হবে আমাদের পতাকা?

জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০)-এ বলা আছে, জাতীয় পতাকা গাঢ় সবুজ রঙের হবে এবং ১০:৬ ফুট  দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকবে। লাল বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধ বিশিষ্ট হবে। এবং লালবৃত্তটি ঠিক কোন অংশে থাকবে, সেটিও উল্লেখ করা আছে।

পতাকার মাপ

আইনানুযায়ী ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো- ১০ ফুট বাই ৬ ফুট, ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং ২.৫ ফুট ১.৫ ফুট।

মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো- ১৫ ইঞ্চি বাই ৯ ইঞ্চি এবং ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।

আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হলো—১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।

ভবনের আয়তন অনুযায়ী এবং প্রয়োজনে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ঠিক রেখে বড় আয়তনের পতাকা প্রদর্শন করা যাবে।

 পতাকা উত্তোলনের সময়

স্বাধীনতা দিবস (২৬ মার্চ), বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) এবং সরকার ঘোষিত অন্য যেকোনও দিন সারা দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের অফিসে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর নির্দেশনা আছে।

ভাষা শহীদ দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি), জাতীয় শোক দিবস (১৫ আগস্ট) এবং সরকার নির্দেশিত দিনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে।

পতাকার কিছু বিধান।

*পতাকা এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন বা মজুদ করা যাবে না, যাতে এটি সহজেই ছিঁড়ে যেতে পারে, মাটি লাগতে পারে বা নষ্ট হতে পারে।

*মিছিলের ক্ষেত্রে জাতীয় পতাকা সামনের সারিতে ডানে বা মাঝখানে রাখতে হবে। বাম পাশে নয়। কোনো অবস্থাতেই জাতীয় পতাকা মাটিতে, পানিতে বা অন্য কোনো জায়গায় অবজ্ঞা করে ফেলা যাবে না। জাতীয় পতাকার ওপর কিছু লেখা অথবা মুদ্রণ করা যাবে না। এমনকি কোনো অনুষ্ঠান উপলক্ষে কিছু আঁকাও যাবে না।

*অনুমতি ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জাতীয় পতাকাকে ট্রেডমার্ক, ডিজাইন বা পেটেন্ট হিসেবে ব্যবহার করাও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

*জাতীয় পতাকাকে পোশাক হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না এবং গায়ে জড়িয়ে রাখা যাবে না।

*বাংলাদেশের পতাকার ঊর্ধ্বে অন্য কোনো পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।

*শোক দিবস সমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমে জাতীয় পতাকা পুরোপুরি উত্তোলন করে তারপর অর্ধনমিত অবস্থায় নামিয়ে আনতে হবে। আর দিনের শেষে জাতীয় পতাকা নামানোর সময় প্রথমে অর্ধনমিত অবস্থা থেকে পুরোটা উত্তোলন করে তারপর নামিয়ে আনতে হবে।

*ইচ্ছে করলেই যে কেউ গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করতে পারবেন না। আইনে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থায়ই গাড়ি কিংবা কোনো যান, রেল কিংবা নৌকার খোলে, ওপরিভাগে বা পেছনে পতাকা ওড়ানো যাবে না।

তবে যারা আইন অনুযায়ী গাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অধিকারী তাদেরও কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। মোটরযানে পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে এর সামনে থাকা দণ্ডায়মান রেডিয়েটর ক্যাপে বেঁধে ওড়াতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জাতীয় পতাকা পরিবহনের পিছনে উত্তোলন করা যাবে না।

*মোটরগাড়ি, নৌযান, উড়োজাহাজ ও বিশেষ অনুষ্ঠান ব্যতীত অন্য সময় পতাকা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উত্তোলিত থাকবে এবং সূর্যাস্তের পর কোনো মতেই পতাকা উড্ডীয়ন অবস্থায় থাকবে না।

* কোথাও নির্দিষ্টিভাবে স্থাপিত কোন বস্তু বা গাছের উপর পতাকা ওড়ানো যাবে না। পতাকার জন্য আলাদা খুটি, বাশ, বা লোহা ব্যবহার করতে হবে। এমন কোন খুটিতেও বাঁধা যাবে না যার অগ্র ভাগ বাকা হয়ে আছে অথবা পুরা খুটিই বাঁকা হয়ে আছে। কোন খুটির উপরের কিছু অংশ বাদ দিয়ে নিচের দিকে পতাকা বাঁধা যাবে না।

আইন অমান্যকারীর শাস্তি

পতাকা আইন অমান্যকারীদের জন্যে এক বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি দেওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.