কুয়াশায় ঢাকা সারা দেশ

দেশের খবর

Day

Night


শীতের পাশাপাশি গতকাল সারা দেশ কুয়াশায় ঢাকা ছিল। সারা দিনে দেশের অধিকাংশ স্থানেই সূর্যের দেখা মেলেনি। আবহাওয়া অফিস বলছে, আজও দুপুর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকবে দেশের বেশিরভাগ জায়গা। সেই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের এক বা একাধিক স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয় চুয়াডাঙ্গায় ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার ছিল চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় গতকাল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৪ ডিগ্রি  সেলসিয়াস; আগের দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী তিন দিনে উত্তুরে হাওয়ার সঙ্গে রাতের তাপমাত্রা কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গায় গতকাল   দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি  সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সকাল থেকে এখানে সূর্যের দেখা মেলেনি। জেলা প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে শীতার্ত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২০ হাজার ৭০০ কম্বল ও নগদ ২৪ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া গেছে। এগুলো জেলার চারটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক বলেন, তাপমাত্রা এক দিনের ব্যবধানে ১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে।

সিলেট থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামে অবতরণে ব্যর্থ হয়। পরে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইটটি অবতরণ করে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমেদ জানান, সকাল ৮টার দিকে ফ্লাইটটি দুই শতাধিক যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে আসে। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে চট্টগ্রামে সেটি অবতরণ করতে পারেনি। পরে সিলেটে এসে অবতরণ করে। কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর বেলা সোয়া ১১টার দিকে ফ্লাইটটি পুনরায় চট্টগ্রামে যায় এবং নিরাপদেই অবতরণ করে।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় গত দুই দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি। ফলে শহর ও গ্রাম-গঞ্জের জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে ও ঘন কুয়াশায় রাস্তাঘাটে যানবাহন ও মানুষ চলাচল কমে গেছে। হাতে কাজ না থাকায় চরের অভাবী মানুষের ঘরে খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে হতদরিদ্ররা চরম কষ্টে আছে।

লালমনিরহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের  কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামীম আশরাফ বলেন, বাতাসের আদ্রতা প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশ হওয়ায় কুয়াশার এত ঘনত্ব বেড়েছে। আবহাওয়ায় উচ্চ বলয় চাপের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাপমাত্র সর্বনিম্ন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রয়েছে। কুয়াশা আরও দু-একদিন থাকতে পারে। কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে প্রতিদিন শীতের প্রকোপতা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। এ অবস্থায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে প্রচ  কুয়াশা টিপটিপ করে বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে। ফলে রাতভর ঠান্ডায় জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা। সকাল পেরিয়ে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের মুখ দেখা যাচ্ছে না। অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে দূরপাল্লার যানবাহনও অটোরিকশাসহ মোটরসাইকেলে হেডলাইট জ্বালিয়ে রাস্তায় চলতে  দেখা গেছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.