জৈষ্ঠ মাসে বিদেশী তিন বন্ধুর বাংলাদেশ ভ্রমন

আমাদের ইসলাম মজার গল্প

জৈষ্ঠ মাস। বাংলা ১২ মাসের ২য় মাস।বাংলাদেশে এ মাস মধুমাস হিসেবে পরিচিত। এ মাসে রসালো ফলে ভরে উঠে চার দিক। আম-কাঠাল আর জাম-লিচুতে ঘরে বাইরে , হাট বাজারে জমে উঠে রসের মেলা। বিশ্ব ব্যাপী মধুমাস সবার কাছে পরিচিত। বিদেশী তিন বন্ধু বহু দিন যাবত পরিকল্পনা করছে তারা জৈষ্ঠ মাসে বাংলাদেশ ভ্রমন করবে। বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে মধু মাসের স্বাদ নিবে তারা। বাঙ্গালীরা কেন এ মাসকে মধু মাস বলে? কি কি মধু মাখা ফল ফলে এ দেশে? কোন ফলে কেমন স্বাদ? এসব স্বাদ গ্রহণের বাসনা তাদের মনে অনেক দিনের।

দেখতে দেখতে সময় পরিক্রমায় জৈষ্ঠ মাসের আগমন। তিন বন্ধু তাদের বাসনা অনুযায়ী বাংলাদেশে আগমন করলো।গ্রামের মেটো পথে ঘুরে ঘুরে গ্রাম বাংলার অপরুপ দৃশ্য দেখছে তারা। সবুজ শ্যামলিমায় ঘেরা বাংলাদেশের অপরুপ দৃশ্য দেখে মুগদ্ধ তারা। গাছ-পালা আর তরুলতায় ঘেরা এক নৈশর্গীয় ভুমি বাংলাদেশ। ফলে ফলে গাছ-পালা ভরপুর।স্রষ্টার অপার অনুগ্রহ গাছে গাছে সাজানো। আমগাছে আম, আর কাঠাল গাছে কাঠাল আর লিছু গাছে লিছু। মহান স্রষ্টার নেয়ামত সব খানে। নানা রঙ্গের নানা নানা ডঙ্গের ফল আর ফলের মৌ মৌ গন্ধ তাদের হৃদয়কে আন্দোলিত করে। এসব ফলের স্বাদ নিতে তাদের মন ব্যাকুল হয়ে উঠেলো।

পথ চলছে তিন বন্ধু। কোন ফল কীভাবে খেতে হয় ? কোথায় পাওয়া যায়? তার কিছুই জানা ছিল না তাদের।হঠাৎই তাদের পাশ দিয়ে এক পথিক গেন্ডারী খেতে খেতে হেটে যায়।গেন্ডারীতে কামড় দিয়ে দাত দিয়ে চিরে মজা করে চিবিয়ে রস টুকু খেয়ে ছোবা টুকু ফেলে দেয় পথিক। দৃশ্যটা দেখে তিন বন্ধু জব্দ করে নেয় কীভাবে রসালো ফল খেতে হয়।

এরই মাঝে এক লোক বাজারে যাচ্ছিল নারিকেল নিয়ে। লোকটি বিদেশী তিন জন লোক দেখে তাদেরকে নারিকেল হাদিয়া দিয়ে যায়। তারা তিন বন্ধু এক জায়গায় বসে নারিকেল খাওয়ার প্র্স্তুতী নিচ্ছে। গেন্ডারী ওয়ালার কাছে শিখা নিয়ম অনুযায়ী নারকেল কামড়িয়ে ছিড়ে চিবাতে থাকে। কিন্তু তেমন কোন স্বাদ পাচ্ছে না।লবন লবল আর আরষ্ট লাগছে।তিন বন্ধু ভাবলো বাঙ্গালীরা এসবই কী মজা করে খায়? এমনিই এক বাঙ্গালী তাদের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় তাদের কান্ড দেখে বুঝতে পারলো বিদেশীরা ভুল করছে।লোকটি তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলো ভাই নারিকেলের ভিতরের অংশটা কোথায়? তিন বন্ধু বলল ভিতরে যে বড় একটি বিচি ছিল তার কথা বলছেন? আমরাতো বিচিটা ফেলে দিয়েছি। বাঙ্গালী বলল, আপনারা ভুল করছেন, আসলে ভিরেরটাই খেতে হয়; আপনারা যা খাচ্ছেন এটা আসলে খাবার নয়। তারা ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং লজ্জিত হয়েছেন।

তারা এবার চিন্তা করলো আর সামনে যাতে ভুল না হয়।বেশ কিছুক্ষণ পরে তাদের কাছ দিয়ে এক বাঙ্গালী কাঠাল নিয়ে হাটে যাচ্ছিল। বিদেশীরা জিজ্ঞসা করলো এসব কি? বাঙ্গালী বললেন, আমাদের দেশের জাতীয় ফল, কাঠাল। বিদেশীদের খুব মন চাইলো কাঠাল খাবে। বিদেশী মেহনানদের কাঠালের প্রতি আগ্রহ দেখে বাঙ্গালী লোকটি তাদেরকে একটি কাঠাল হাদিয়া দিয়ে গেল।

তারা তিন জন কাঠাল নিয়ে বসলো খাওয়ার জন্য। তারা ভাবলো আগের মতো আর ভুল করা যাবে না। কাঠালের মজা নিতেই হবে। কাঠালটি তারা ভাংলো এবং খুলে চিন্তা করলো একটু আগে একজন আমাদের শিখিয়ে গেছে ভিতরেরটা খেতে হয়। আমরা আর বাহিরেরটা খাবো না; এবার অবশ্যই ভিতরেরটা খাবো। কাঠালের একদম মাঝখানে পুতার মতো একটি জিনিস, যাকে বোন্দা বলে। তারা বোন্দাটি খুলে তিন ভাগ করে তিন জনে তিন টুকরা চিবাচ্ছে।তারা এর মাঝে কোন স্বাদই পেল না। তারা বলছে, হায়বে বাঙ্গালী! এসব কি খায়? কোন স্বাদইতো নেই এতে । এটাইকী এদেশের জাতীয় ফল? এর মাঝেই কি মধু? কোথায় মধু, কোথায় স্বাদ? এমনিই এক লোক এসে বলছেন, ভাই আপনারা ভুল করছেন, ভিতরেরটা খাচ্ছেন কেন? বাহিরেরটা খেতে হয়।

তারা অবাক হয়ে বললো, কেউ বলে বাহিরেরটা খেতে হয়; আবার কেউ বলে ভিতরেরটা।আসলে খাবো কোনটা? লোকটি বললেন, আসলে একেক ফলের স্বাদ একেক জায়গায় থাকে। আগে ভাল ভাবে ফল খাওয়া শিখে নেন; তার পরে খান। নয়তো মজা পাবেন না।

শিক্ষাঃ ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞান না নিয়েই অনেকে পন্ডিতি করে।ফলে যে যার মতো আমল করতে থাকে। যার কারণে অনেকেই ইসলাম থেকে উপকার নিতে পারে না। অযথাই কথায় কথায় ইসলামকে দোষারোপ করে। মুলত তারা ইসলামের রহস্যপর্যন্ত পৌছঁতে পারে নি। তাই তাদের এই অবস্থা। ইসলাম সম্পর্কে আগে জানা দরকার। জানতে হলে যেতে হবে আলেমদের কাছে। নিজে নিজে ফেসবুক আর ইউটউব থেকে ইলেম নিয়ে মাদবরী করলে বিদেশী তিন বন্ধুর মতোই ইসাম আরষ্ট লাগবে। ইসলামের জন্য প্রধান শর্ত হলো শিক্ষা। এই জন্যই নবী আঃকে আল্লাহ পাক প্রথমেই বলেছেন-ইকরা আপনি পড়ুন। আমাদের দেশে কিছু লোক মনগড়া শিক্ষা নিয়ে ইসলামকে আরষ্টা বানাতে চায়, তাদের থেকে সাবধান!

Leave a Reply

Your email address will not be published.