তাবলীগ জামাতের সূচনা ইতিহাস

আমাদের ইসলাম ইতিহাস


দাওয়াত ও তাবলীগ কোন নতুন কাজ নয়। আদম আঃ থেকে অসংখ্য নবী-রাসূল দুনিয়াতে আগমন করেছেন সত্য ও কল্যাণের বানী মানব জাতির কাছে পৌঁছানোর জন্য। একেই তাবলীগ বলে। আল্লাহ পাক আমাদের নবীজীকে শেষ নবী হিসেবে পাঠিয়েও এই নির্দেশ দিয়েছেন- হে নবী আপানি আপনার রবের পক্ষ থেকে আগত সত্যের বাণীর প্রচার (তাবলীগ) করুন। যদি আপনি এরুপ না করেন তা হলেতো আপনি রেসালতের দায়িত্ব পালন করলেন না। এই ফরমানে নবী আঃ নিজের জীবনকে ওয়াকফ করেছেন দিনের প্রচারের কাজে। জীবনের শেষ সময়ে এসে সাড়া উম্মতের হাতে এ দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন এ কথা বলে- তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও অপরের কাছে পৌঁছে দাও। সত্য ও কল্যাণের বাণী অন্যের কাছে পৌঁছানোর লক্ষে কালের পরিক্রমায় এ কাজের ধরন ও পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটেছে। সত্য ও কল্যানের বাণী অন্যের কাছে পৌছানোর একটি ফলপ্রসূ পদ্ধতি ও ধরন উদ্ভাবন করেন মাওঃ ইলিয়াস কান্ধলবী রহ.১৯২৬ ইং সালে। দিল্লির মেওয়ার এক নিভৃত পল্লির কয়েক জন দরিদ্র শ্রেণীর খেটে খাওয়া মানুষের মাধ্যমে। গরীব লোকগুলোর রোজের হাজিরা নিজের পকেট থেকে দিয়ে মাওঃ ইলিয়াস রহ. প্রথম জামাত তিন দিনের জন্য দেওবন্দ মাদরাসায় পাঠান। নিজের উস্তাদ ও সাথীদেরকে এ দাওয়াতের পদ্ধতির বাস্তব রুপ বাস্তবায়ন করে দেখান। দেওবন্দের আসাতাজায়ে কিরামগন তখন এপদ্ধতিতে মুগ্ধ হয়ে ব্যাপকভাবে এপদ্ধতি প্রচারের অনুমতি দেন। দেওবন্দের অনুমতি পেয়ে কাজের ব্যাপকতা বাড়তে থাকে । ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান সহ আশপাশের দেশেও ব্যাপকভাবে সমাদ্রিত হয় দাওয়াত ও তাবলীগের এ ধরন। বিশ বছর পর ১৯৪৬ ইং সালে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে প্রথম বিশ্ব ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৮ ইং সালে চট্টগ্রামে ২য় , ১৯৫৮সালে নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধির গঞ্জে ৩য় এবং ১৯৬৬ ইং সালে তুরাগ নদীর তীরে ৪র্থ বিশ্ব ইজতিমা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর থেকে বিশ্ব ইজতিমার স্থান আর পরিবর্তিত হয় নি। আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব ইজতিমার ৫৫তম পর্ব

Leave a Reply

Your email address will not be published.