থার্টি ফার্স্ট নাইট ডে’র কার্যাবলী ও ইসলামের নির্দেশনা

আর্ন্তজাতিক বিনোদন হক কথা

মাওলানা মুহাম্মদ শরীফ খান 

১. অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা: এ রাত্রিকে কেন্দ্র করে চলে অশালীন ও বেহায়পণার মহোৎসব। যুবতীরা আটশাঁট, অশালীন ও নগ্ন পোষাক পরিধান করে অবাধে চলাফেরা করে। অথচ এ প্রসঙ্গে নাবী (সা) বলেন- ঐসব নারী; যারা হবে পোষাক পরিহীতা কিন্তু নগ্ন। যারা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা মাথা বক্র উচুঁ কাঁধ বিশিষ্ট উটের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। (সহীহ মুসলিম-২১২৮)।

২. গান বাজনা: থার্টি ফাস্ট নাইটকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বিভিন্ন কনসার্টে নারী পুরুষের এক সঙ্গে গান বাজনা, নগ্ন নৃত্য যেন আবশ্যকীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচে এটা আল্লাহ তায়ালা ও রাসূল (সা) সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন। (সূরা লুকমান-৬, সহীহ বুখারী- ৫৫৯০, ৬৮৯১)।

৩. আতশবাজী ও পটকাবাজী: এ রাতে আনন্দ উল্লাস উপভোগ করার জন্য মধ্যরাত থেকে শুরু হয় আতশবাজীও পটকাবাজী। যা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে এবং জনসাধারণের জন্য কষ্টদায়ক হয়। অথচ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- যা বিনা অপরাধে মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে কষ্টদেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে। (সূরা  আহযাব- ৫৮, সহীহ বুখারী-২৯০৫)।

৪. অর্থ অপচয়: এ রাতকে কেন্দ্র করে অনেক অর্থ অনৈসলামিক ও হারাম কাজে ব্যায় করা হয়। যা অপচয় ও অপব্যায়ের শামিল। আর ইসলাম অপব্যাকারীকে শয়তানের ভাই হিসাবে আখ্যায়িত করেছে। (সূরা বানী ইসরাঈল ২৬-২৭)।

৫. যুবক-যুবতীর অবাধ মেলামেশা: এ রাত্রিতে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, কমিউনিট সেন্টার, সমুদ্র সৈকত, নাইট ক্লাবসমূহে যুবক-যুবতীরা অবাধে মেলামেলা ও অপকর্মে লিপ্ত হয়। অথচ ইসলাম ইহাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, অবশ্যই কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হলে তাদের তৃতীয়জন হয়ে সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। (তিরমিযী, মিশকাত-১৩১৮, সহীহ)।

৬. নেশাদ্রব্য সেবন: এ রাতে উচ্ছৃঙ্খল যুবক-যুতীরা মদ ও নেশা দ্রব্য পান করে মাতাল হয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ঘটায়। আর একারণেই ইসলাম সমুদয় নেশাদ্রব্যকে হারাম করেছে। (সূরা মায়েদা-৯০-৯১ ও সূরা নিসা-১৪, সহীহ মুসলিম ২য় খন্ড, ৯৬৭ পৃষ্ঠা)

৭. বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য: থার্টি ফাস্ট নাইট ডে’ উদযাপন সম্পূর্ণরূপে বিধর্মী অপসংস্কৃতি। এ রাত্রিতে HAPPY NEW YEAR বলে অভিবাদন জানানো, আতশবাজী, পটকাবাজী, ফ্যাশন শো, ফায়ার প্লে, ট্যাটো বা উল্কা অংকন, ডিজে ও কনসার্ট, নেশা সেবনসহ বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বিভিন্ন ধরণের অনৈসলামিক ও অপসংস্কৃতিক কার্যাবলী চর্চা করা হয়। আর ইসলাম বিধর্মীদের সাথে সাদৃশ্য রাখাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। রাসূর (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করলো, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। (আহমাদ, আবূ দাউদ, মিশকাত-৪৩৪৭)।

৮. চরিত্র ধ্বংসে বিধর্মীদের নীলনকশা: মুসলিম তরুণ-তরুণীদের চরিত্র ধ্বংস করার জন্য ইহুদী-খ্রিস্টানদের নীলনকশার একটি অংশ থার্টি ফাস্ট নাইট। আর একটি জাতিকে ধ্বংস করার মূল হাতিয়ার হচ্ছে যুব সমাজকে ধ্বংস করা। এ লক্ষ নিয়েই তারা সামনে অগ্রসর হচ্ছে। তাই আল্লাহ আমাদেরকে তাদের অনুস্বরণ করতে নিষেধ করেছেন। (সূরা বাকরা-১২০ ও সূরা আনআম-১৫)।

যেকোনো সময় আমাদের সাথে যুক্ত হতে ডাউনলোড করুন আমাদের হক কথা এ্যাপ:

App Link- http://bit.ly/app_haquekotha

Leave a Reply

Your email address will not be published.