নসিবে সময় খুবই কম!

দেশের খবর

সময় মিলছে খুবই কম! চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসারও নসিব হচ্ছে না। পথেই শ্বাসকষ্টে মৃত্যু ঘটছে। ঘরে মৃত্যুর সংখ্যাও দীর্ঘ হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত-মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে এমনই জানালো সরকার।এ পর্যন্ত মৃত্যু ছাড়িয়ে গেছে ১২শ, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার। একদিনে আরও ৩৮ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ২০৯ জন।গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন হাজার ৯৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০ হাজার ৬১৯ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা গতকাল দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে শনাক্ত রোগীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৪ হাজার ২৭ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। হাসপাতালের পাশাপাশি যারা বাসায় থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন, তাদের সংখ্যা হিসাব করে আইইডিসিআর সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের এই পরিসংখ্যান দিয়েছে বলে জানান অধ্যাপক নাসিমা।তিনি জানান, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ, ছয়জন নারী। তাদের ২৫ জন হাসপাতালে, ১১ জন বাড়িতে মারা গেছেন এবং দুইজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।

তাদের ১৮ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ছয়জন সিলেট বিভাগের, একজন রংপুর বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।মৃত ৩৮ জনের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৫ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, পাঁচজনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, সাতজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং তিনজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিলো।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫৮টি পরীক্ষাগারে ১৫ হাজার ৩৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে আনা হয়েছে ৫৩৬ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে আইসোলেশনে রয়েছেন ১০ হাজার ২৬ জন রোগী।

বিপজ্জনক হয়ে উঠছে সিলেট, জনতার কামরানের মৃত্যু, ‘রেড জোনে’ ১৮ ওয়ার্ড : করোনায় দিনদিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে সিলেট। আক্রান্তের সংখ্যা শুধু বাড়ছেই। সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা কেড়ে নিলো সর্বোচ্চ ছয়জনের প্রাণ। মৃত সবাই সিলেট জেলার বাসিন্দা।এ নিয়ে সিলেট বিভাগে মৃতের সংখ্যা অর্ধশত ছাড়ালো। মোট মৃত্যু ৫৪। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪২, সুনামগঞ্জে চার, হবিগঞ্জে চার ও মৌলভীবাজারে চারজন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডকে রেড জোনে রাখার প্রস্তাব করেছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস।

এছাড়া চারটি ওয়ার্ডে হলুদ জোন আর পাঁচটি ওয়ার্ডকে সবুজ জোনে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. মো. আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১২, ১৩, ১৪, ১৬, ১৭, ১৯, ২০, ২১, ২২নং ওয়ার্ড রেড জোনে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১০, ১৫, ১৮, ২৭ নং ওয়ার্ড হলুদ জোনে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ১১, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬নং ওয়ার্ডকে সবুজ জোনে চিহ্নিত করেছে সিভিল সার্জন অফিস। করোনা ভাইরাসের উচ্চঝুঁকি সম্পন্ন (রেড জোন) হিসেবে অর্ধশতাধিক এলাকাকে চিহ্নিত করেছে সরকার।এদিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ‘জনতার মেয়র’ হিসেবে খ্যাতি পাওয়া নেতা করোনায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল বিদায় নিয়েছেন।তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, বন ও পরিবেশমন্ত্রী, সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিসিক মেয়র, আওয়ামী লীগসহ রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় গত ৫ জুন করোনাক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন কামরান। পরদিন তাকে স্থানীয় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অবস্থার অবনতি ঘটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কামরানকে ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গত ৭ জুন সন্ধ্যায় বিমানবাহিনীর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাকে প্লাজমা থেরাপি দেয়া হয়। এতে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল।কিন্তু রোববার দিবাগত রাতে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনকে শোকে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কামরান। সিলেটে দুটি জানাজা শেষে নগরীর মানিকপীর টিলায় আড়াইটার কিছু পরে সমাহিত করা হয় তাকে।

কামরানের মৃত্যুর পর সিলেটে করোনা আতঙ্ক খুব জোরালো হচ্ছে। গতকাল একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছে মরণব্যাধি এই করোনা। ২৪ ঘণ্টায় ঝরলো ছয়জনের প্রাণ। যা এখন পর্যন্ত সিলেটে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে সিলেটে একদিনে মারা গিয়েছিলেন পাঁচজন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৮৬ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৪১ ও সুনামগঞ্জে ৪৫ জন। বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২৪০৬ জন।এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৪১৩, সুনামগঞ্জে ৫৬৩, হবিগঞ্জে ২৩৯ ও মৌলভীবাজার জেলায় ১৯১ জন। সিলেট অঞ্চলে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন মোট ২০৩ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৫৭, সুনামগঞ্জে ১১৫, হবিগঞ্জে ২৫ ও মৌলভীবাজারে ছয়জন।এদিকে, সিলেট বিভাগে করোনামুক্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৪০, সুনামগঞ্জে ছয় ও মৌলভীবাজারে দুজন। আর এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৫৩৭। এর মধ্যে সিলেটে ১৮৮, সুনামগঞ্জে ১১৭, হবিগঞ্জে ১৫৭ ও মৌলভীবাজারে ৭৫ জন।সূত্রঃ আমার সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.