পশুর যেসব ত্রুটিতে কোরবানি হয় না

আমাদের ইসলাম হক কথা

কোরবানির জন্তু—উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ভেড়া ও ছাগল দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। অন্য জন্তু দ্বারা কোরবানি নাজায়েজ। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কমপক্ষে এক বছর পূর্ণ হতে হবে, গরু-মহিষ দুই বছর পূর্ণ হতে হবে, উট পাঁচ বছর পূর্ণ হতে হবে। (হিদায়া, খ-৪, পৃ. ১০৩)

কোরবানির পশু হতে হবে দোষ-ত্রুটিমুক্ত। পশুর মধ্যে যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি দেওয়া যাবে না সেগুলো হচ্ছে, ১. দৃষ্টিশক্তি না থাকা। ২. শ্রবণশক্তি না থাকা। ৩. অত্যন্ত দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ হওয়া। ৪. এই পরিমাণ লেংড়া যে জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে অক্ষম। ৫. লেজের বেশির ভাগ কাটা। ৬. জন্মগতভাবে কান না থাকা। ৭. কানের বেশির ভাগ কাটা। ৮. গোড়াসহ শিং উপড়ে যাওয়া। ৯. পাগল হওয়ার কারণে ঘাস-পানি ঠিকমতো না খাওয়া । ১০.  বেশির ভাগ দাঁত না থাকা। ১১. রোগের কারণে স্তনের দুধ শুকিয়ে যাওয়া। ১২. ছাগলের দুটি দুধের যেকোনো একটি কাটা। ১৩. গরু বা মহিষের চারটি দুধের যেকোনো দুটি কাটা। মোটকথা, কোরবানির পশু বড় ধরনের দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হবে। হাদিসে এসেছে, ‘চার ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি হবে না। অন্ধ, যার অন্ধত্ব স্পষ্ট; রোগাক্রান্ত, যার রোগ স্পষ্ট; পঙ্গু, যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট ও আহত, যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে।’ ( ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩১৪৪)

পশু জবেহ করার নিয়ম

(১) জবাই করার আগে পশুকে ঘাস, পানি প্রভৃতি ভালোভাবে খাওয়াতে হবে। কোরবানির প্রাণীকে ক্ষুধার্থ বা পিপাসার্ত রাখা অন্যায়। (২) পশুকে কোরবানি করার স্থানে টেনেহিঁচড়ে নেওয়া অন্যায়। (৩) জবেহ করার জন্য পশুকে কঠোরভাবে শোয়াবে না। (৪) কিবলার দিকে ফিরিয়ে বাম পাশের ওপর শোয়াতে হবে। (৫) পশুর চার পায়ের মধ্যে তিনটি বাঁধবে। (৬) আগে থেকেই ছুরি ধার দিয়ে রাখবে। ভোঁতা ছুরি দিয়ে জবেহ করবে না। (৭) কোরবানির পশু শোয়ানোর পর ছুরি ধারানো অন্যায়; বরং আগে থেকেই ধার দিয়ে নেবে (ফতোয়ায়ে রহিমিয়া, ১/৯৮)। (৮) এমনভাবে জবেহ করা যাবে না, যার ফলে গলা পুরাপুরি আলাদা হয়ে যায়। (৯) জবেহ করার সময় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলতে হবে। (১০) একটি পশুকে আরেকটি পশুর সামনে জবাই করবে না। (১৪) পশুর প্রাণ বের হওয়ার আগে চামড়া খসানো যাবে না। (জাওয়াহিরুল ফিকহ : ২/২৭৩)

পশুর যেসব অংশ খাওয়া যায় না

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ পশুর কিছু অংশ ফেলে দিতে বলা হয়েছে, যা খাওয়া নিষিদ্ধ। তা হলো, ১. প্রবাহিত রক্ত, ২. অণ্ডকোষ, ৩. চামড়া ও গোশতের মধ্যে সৃষ্ট জমাট মাংসগ্রন্থি, ৪. মূত্রথলি, ৫. পিত্ত, ৬ ও ৭. নর ও মাদির যৌনাঙ্গ। হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বকরির সাতটি জিনিস অপছন্দ করেছেন : পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর ও মাদির যৌনাঙ্গ, অণ্ডকোষ, (প্রবাহিত) রক্ত।’ (কিতাবুল আসার, হাদিস : ৮০৮)

পশু হাটের হাসিল কে দেবে?

আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে বাজার থেকে গরু কিনলে ক্রেতাকে হাসিল দিতে হয়। কোরবানির বাজারের হাসিল কে আদায় করবে? গরুর ক্রেতা, নাকি বিক্রেতা?

হাসিল মূলত কর্তৃপক্ষ থেকে জায়গা লিজ নিয়ে হাটের ব্যবস্থাপকরা যে ব্যবস্থাপনা করে থাকেন তা থেকে উপকৃত হওয়ার ভাড়াস্বরূপ, আর হাট থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই উপকৃত হয়ে থাকেন; তাই উভয় থেকে অথবা যে কারো থেকেই হাসিল নিতে ইসলামে বাঁধা নেই। তাই দেশীয় আইন বা প্রচলিত রীতি অনুসারে যে আদায় করা নিয়ম, সে-ই আদায় করতে হবে। (শরহুল মাজাল্লাহ : ১/১০১, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ১১/৩২১)

Leave a Reply

Your email address will not be published.