পেঁয়াজের সাক্ষাৎকার!

জোকস মজার গল্প হক কথা

হক কথা.নেট অফিসে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে দেশের বর্তমান সময়ের আলোচিত মশলা প্রধান-জনাবা পেঁয়াজিয়া পেঁয়াজ আপাকে। আসুন আমরা তাঁর সাক্ষাৎকার শুনি।

হক কথা– আপা! আপনার নামটা যদি একটু বলতেন?
পেঁয়াজ- এত তাড়াতাড়িই আমার নামটা ভুলে গেলেন? কিছু দিন এভাবে গেলেতো বাবার নামও
ভুলে যাবেন।আমার নাম পেঁয়াজ ।
হক কথা- কেমন আছেন?
পেঁয়াজ- এখনো ভাল না থেকে পারি?
হক কথা – আপনার দেশের বাড়িটা কোথায়? আইমিন আপনি কোন দেশ থেকে আসছেন?
পেঁয়াজ- ভেরী সিক্রেট কোয়েশ্চেন- আসলে সত্য কথা হলো- আমি অনেক দিন যাবৎ
মজুদদারের গোডাউনে বন্দি ছিলাম। যেকোন কারনেই মজুদদার আজ
আমাকে মুক্তি দিয়েছেন। তবে এই শর্তে আমাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে-আমি যেন কোন
সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে একদম প্রয়োজন ছাড়া কোন কথা না বলি । সুতরাং
বুঝতেই পারছেন আমি কতটা নজরদারীতে আছি- এই কারনেই
দেশের ঠিকানাটা এবং অতিতে আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো আমাকে স্কীপ
করতেই হচ্ছে। দ্যিস ইস ভেরী সিক্রেট ফর মী।

হক কথা – আচ্ছা যাই হউক- এদেশে এসে আপনার কেমন লাগছে?
পেঁয়াজ- আলহামদুলিল্লাহ ভালই লাগছে-এদেশে আমাদের এত কদর, এত দাম আগে জানতাম
না, জানলে অনেক আগেই আমরা এ দেশে চলে আসতাম।
হক কথা – আপনার এত মুল্যায়নের কারণ কি বলে আপনি মনে করেন?
পেঁয়াজ- দেশ ও সমাজ হয়তো আমার অনুভুতিকে গ্রহন করবে না; তার পরেও হক কথার স্টুডিতে
এসে সত্য আমাকে বলতেই হচ্ছে-
আমাদের জন্মটা মাটির নিচে। হাজার টন মাটির আবরনে আমাদের জন্ম। মাটির নিচ
থেকে উকি দিয়ে মাথা জাগাতেই দেখি আমাদের জন্য বিশাল বস্তা রেডী আমাদেরকে
বন্দি করতে। মাথা নেড়ে মাটি ঝেড়ে উপরে উঠেই বস্তা বন্দি। বস্তা বন্দি অবস্থায় দেশ
দেশান্তরে স্থানান্তরিত। অসাধু মজুদদারদের কারনে তাদের গোডাউনেও আবার বন্দি
থাকতে হয় মাসের পর মাস । জন্মগত ভাবেই আমরা অনেক আবরনে আচ্ছাদিত। গভীর
ফসলের জমি থেকে মশলার ঝুড়ি পর্যন্ত আমাদের জীবনচক্র কঠিন পর্দাবৃত জীবন।
আল্লাহর দেওয়া পর্দা বিধান পালনের কারনেই আমার ¯্রষ্টা আমার দাম বাড়িয়ে
দিয়েছেন। আজ আমার এত দাম।
হক কথা – আপনিকি মনে করেন নারীরা আপনার মতো র্পদা করলে তাদেরও দাম বাড়বে?
পেঁয়াজ- অবিয়েসলী (অবশ্যই)।
হক কথা – এমন কোন দুঃখ আছেকি যা আপনাকে কাঁদায়?
পেঁয়াজ- সাড়া জীবন আমি মানুষকে কাঁদিয়েছি- আজ আমার কাঁদার প্রশ্ন-বড় অবাক করার মতো
বিষয়। আমার দুঃখ বলতে তেমন কিছু নেই; তবে বাংলাদেশে এসে একটি বিষয় দেখে
আমি দুঃখ পেয়েছি- যশোর,খুলনার লোক ছাড়া মোটা মোটি আর কেউ আমাদের নামটা
শুদ্ধভাবে বলতে পারে না। কেউবলে পেয়াচ, কেউ পেয়াছ।
পেজ,পেচ,পেছ,পিয়াইজ,পেআইস ইত্যাদি কত নামে আমাকে ডাকে। আমি শুনে বিষ্মিত
হই। যে আমাকে খুব শুদ্ধ করে বলে সেও বলে পেয়াজ। আসলে আমার নাম হলো
পেঁয়াজ।
হক কথা – আর কোন বিষয়ে আপনাকে অবাক করেছে কি?
পেঁয়াজ- হ্যাঁ – করেছে বৈকি? এ দেশের প্রধান মন্ত্রি জাতিকে পরামর্শ দিয়েছেন আমাকে একদম
রান্না থেকে বাদ দিয়ে দিতে । শুনে আমি অবাক হলাম। যেই প্রধানমন্ত্রি সবার অধীকারের
ব্যাপারে সচেতন, তিনিই আমাদের অধিকার, আমাদের মূল্যায়নকে মাটির সাথে
মিশিয়ে দিতে চান। অবাক না হয়ে পারি কীভাবে?
হক কথা – এ জাতি আপনাকে এত মূল্যায়ন করছে কারন কি? এ মূল্যায়ন আপনার কোন ত্যাগের
বিনিময় বলে আপনি মনে করেন?
পেঁয়াজ- আমার ত্যাগের ফিরিস্তিতো বিশাল, তবে সংক্ষেপে বলছি-কেউ রান্না করতে গেলে
প্রথমেই আমার উপর আক্রমন করে। ছোট্ট বাচ্চা মায়ের কাছে রান্না শিখার আবদার
করলেই প্রথমে তাকে ধরিয়ে দেয়-নে পেঁয়াজ কাটা শিখ । পুত্র বধুর বিরুদ্ধে শ্বশুড়ী
ষড়যন্ত্রকে পেঁয়াজ কাঁটা বলে চালিয়ে দেয় । এসব আমরা বরাবরের মতোই সহ্য করছি –
এগুলো আমার ত্যাগ। কিছু রান্নার শুরুতেই উনুনে আগুন দিয়ে, কড়াই খাটিয়ে, তেল ঢেলে
কঠিন ভাবে গরম করা হয়। সেই কঠিন গরম তেলে সর্বপ্রথম আমরাই জীবন দিয়ে থাকি।
এমনিতেইতো আর রান্না এতো মজা হয় না। গরম তেলে আমাদের সরল ত্যাগ
মেশানো;তাই এতো স্বাদ।
স্বাদের খাবার খেয়ে দেশের লোক শোনাবন্ধুর গান গায়, হায় হায় ! আমাদেরও মনে
রাখে না, আর আমাদের ¯্রষ্টা আল্লাহকেও মনে রাখে না- তাই আমাদের এতো দাম।
হক কথা – আমরা জানি- রান্নার সুবাধে নারীদের সাথে আপনাদের সর্ম্পকটা গভীর। আপনাদের
দামবৃদ্ধিতে তাদেরও মেজাজ গরম। তাদেরকে সান্তনা দেওয়ার মাতো কিছুকি
আপনার বলার আছে?
পেঁয়াজ- নারীদের উদ্দেশ্যে আমার একটাই বক্তব্য- হে নারীরা! আমাদের প্রতি রাগ করো না।
আমাদের যত দামই হউক না কেন , প্রধানমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রিসহ যে যাই বলুক না কেন-
আমরা তোমাদেরকে ছেড়ে যাবোনা। আমরা আছি তোমাদের কাছাকাছি। আমরা রান্না
ঘরে তোমাদেরকে বহু কাঁদিয়েছি। পুরুষেরা তোমাদের-পেঁয়াজ কাঁটা কান্না দেখে
তামাশা করতো , মজা করতো। তোমাদের চোখের পানি মোছার মতো কেউ ছিলনা
পাশে। আমি আজ পুরুষদের কাঁদাচ্ছি, তুমি তামাশা দেখ। সস্তা পেয়ে বড় বড়
ইলিশ কিনে আনলে তুমি ২ কেজি পেঁয়াজের বায়না করবে। আমি তোমাদের মশলার
ঝুড়ি ভরে থাকতে চাই। এখন যারা আমাদের দামের ভয়ে দু তিনটা করে পেঁয়াজ
কিনছেন, পেপে কুচি দিয়ে তরকারী রান্না করছেন তারা সবাই আজ আমাদের উপর
অবিচার করছেন। রমজান মাসে, কুরবানীর ঈদে কেউতো আমাদের বাদ দিলেন না, আজ
আমাদেরকে একদম বাদ দিয়ে দিলেন? আসলেই আপনারা স্বার্থপর।
হক কথা – এ দেশে আপনি কতটুকু নিরাপদ বলে মনে করেন?
পেঁয়াজ- যে দেশে মানুষ পিটিয়ে মারার পর চিন্তা করে, যে সে সরকারী দলের লোক না বিরোধী
দলের, হিন্দু না মুসলমান, ছেলে ধরা না গার্ডিয়ান, সে দেশে আমি নিজেকে খুবই
অনিরাপদ মনে করছি। হতে পারে হক কথার স্টুডিও থেকে ফিরার পথেই যে কোন খরিদদার আমাকে নিয়ে নিজের বিবির হাতে তুলে দিয়ে বলতে পারে বড় ইলিশ এনেছি, রাতেই ইলিশের দোপেয়াজা দিয়ে ভাত চাই। মানুষকে এত তরিৎ চিন্তা দিয়ে আল্লাহ বানিয়েছেন যে রাতেই আমাকে চিরি চিরি করে গরম তেলে নামিয়ে দিতে পারে। আমার নিরা পত্তা এতো দূর্বল।
হক কথা – আপনার কারনে ইলিশের দাম কমেছে এ ব্যাপারে আপনি কি মনে করেন?
পেঁয়াজ- কথাটি একদমই ঠিক বলেন নি। বছরে বহুবার ইলিশের দাম বেড়ে থাকে তখন কে
বাড়ায়?
তখনতো আর আমাদেরকে স্বরণ করা হয় না। আজ আমাদের দাম দেখে সবাই যে যার মতো যা খুশি তাই বলছে। আমার বলার কিছু নেই। গত বার যখন ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে ১৫০ টাকা কেজি হয়ে ছিল,তখন মরিচের দাপটে আমাদের মন চাইত রান্নার কড়াই থেকে নেমে যাই। তখনতো আমাদের পক্ষে কাউকে পাইনি। আজ কেন এত আন্দোলন? আমাদেরকে নিয়ে কেন এত লেখা লেখি ? সংসদ সদস্যরা কেন আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপেছেন। আমাদেরকে দিয়ে তাঁরা কি টাকা পয়সা পায় নি? তাহলে আমার আঁচল ধরে কেন এত টানা টানি? আমরা নিরিহ তাই?
হক কথা – আপনার সহচর , মরিচ , রসুন, আদা, গরম মশালা এদের ব্যাপারে আপনা পক্ষ থেকে
শান্তনামূলক কিছু বলুন।
পেঁয়াজ- শোন হে সহচর বৃন্দ! বাংলাদেশের হাল অবস্থায় আমি যা আন্দাজ করতে পারছি তা
খুবই আশাজাগানিয়া। অচিরেই চাল-তরকারী সহ সব মশলার দাম বেড়ে যাবে বলে আমি মনে করছি। আমাদের দাম দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়ার কিছু নেই। হতে পারে আপনাদের দাম আমাদের চেয়েও বেড়ে যেতে পারে। আর আমাদের সকলের এমনটাই কামনা। হে সহচরবৃন্দ! আমরা সব সময় সব তরকারীতেই একসাথে থেকে থাকি, ভবিষ্যতেও এক সাথে থাকবো ইনশাআল্লাহ। কারো দামে কেউ বিচলিত হবো না। আমরা বাংলাদেশে আছি আামাদের দাম বাড়তেই থাকবে ,কেউ ঠেকাতে পারবে না। তবে আমাদের ঐক্য বদ্ধ থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.