বঙ্গবন্ধুকে লেখা শিশু-কিশোরদের চিঠি

ইতিহাস দেশের খবর বিনোদন মজার গল্প সংবাদ হক কথা

আমাদের সাথে যুক্ত হতে ডাউনলোড করুন আমাদের হক কথা এ্যাপ:App Link- http://bit.ly/app_haquekotha


স্বাধীনতার মহানায়ক হে বঙ্গবন্ধু! পত্রের প্রথমেই বাংলার শিশু-কিশোরদের পক্ষ থেকে তোমাকে জানাই শত-সহ¯্র সালাম। আজ তুমি বেঁচে থাকলে শত বছরে পা রাখতে। আজ তোমার জন্ম দিন। কাছে থাকলে তোমাকে সাথে নিয়েই কেক কাটতাম। নেচে গেয়ে দাদু-দাদু বলে তোমার সাথে লূটুপুটি খেলতাম। তুমি আমাদের শোনাতে রুপকথার গল্প। তা আর হয়ে উঠলনা। নিষ্ঠুরেরা তোমাকে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। তুমি আজ আমাদের থেকে অনেক দূরে। ধানমন্ডিতে গেলে আমরা তোমার রক্তমাখা জামাটার দিকে তাকিয়ে থাকি। সিড়িতে দাড়িয়ে তোমার গায়ের রক্ষছিটা গুলোকে এক একটি মুজিব রুপে হৃদয়ে অঙ্কন করি। তোমাকে দেখি না। তোমার বেডরুম, বিছানা, হাতপাখা আর লালটেলিফোন আমার হৃদয়ে তোমার ছবি আঁকে। তোমার প্রতিকৃতির সামনে দাড়ালে মনে হয় তুমি এক মুর্তিমান মডেল নেতা। তোমার দরাজ কন্ঠের স্বাধীনতার ডাক বার বার শুনি অডিও- ভিডিওতে। তোমার জাদু করি কন্ঠ আর বিমোহিত জাতির প্রতি ভালবাসার নমুনা দেখে তোমাকে দেখতে বড় বেশী মন চায়। আমরা তোমার বিরহ চুড়ান্ত অনুভূতিতে অনুভব করছি। এর মাঝেও আমাদের শান্তনা বলে এতটুকু যে তোমার যোগ্য মেয়ে আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠ। তোমার অবর্তমানে সে এদেশের অঘুম্য পাহারাদার। আমাদেরকে দেয় অকৃত্রিম ভালবাসা। মমতারকোলে আগলে রাখে সে আমাদের। প্রতিটি শিশু কিশোরকে সে হারিয়ে যাওয়া ছোটভাই রাসেল বানিয়ে ফেলেছে। তার মমতায় আমরাও তাকে অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। তবে তোমার কাছে তার ব্যাপারে আমাদের একটু অভিযোগ । তোমার মেয়ে চারবার ক্ষমতা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা পেয়েছে হাতে। প্রথম দুই বার ক্ষমতায় এসে আলেম উলামাদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরন করেছিল। পরে ধীরে ধীরে সে বুঝতে পেরে সুধরে নিয়েছে নিজেকে। এখন আলেমদের সাথে তার দারুন সখ্যতা। আমাদের অভিযোগের জায়গাটা হলো সে এখনও নাস্তিক-মুর্তাদ, নায়িকা,গায়িকা, খুনি-অপরাধী এমনকি তোমার খুনিদেরকেও তার সাথে রাখে। তোমাকে যারা আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রের জাল বুনে ছিল, তারাও আজ তোমার মেয়ের কাছে জামাই আদরে থাকে। আমরা তাকে বার বার বুঝাতে চেষ্টা করেছি। কেনজানি সে আমাদের কথা মাঝে মাঝে শুনতে চায় না। তুমি কাছে থাকলে হয়তো বলতে মা হাসিনা! আমি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছি, আমি তাবলীগের কাজের জন্য কাকরাইল মারকাজের জায়গা দিয়েছি মুসলমানদের শক্ত অবস্থানের জন্য। নাস্তিক-মুরতাদদের জন্য এ দেশ নয়। মাগো তুমি তাদের সঙ্গ ছেড়ে দাও। দাদু তুমি আজ বেচেঁ নেই, বেচেঁ নেই দাদীও চাচা-চাচীরাও সবাই তোমার সাথে। কে বুঝাবে তোমার মেয়েকে। মাঝে মাঝে ছোট ফুফু রেহেনা তাকে বুঝাতে চায় সে ছোট ফুফুকে ধমকিয়ে থামিয়ে দেয়। আমরাও খুব বেশী কিছু বলি না, কারণ তোমাদের বিরহে কান্নার আঁিখ জল মুছতে মুছতে তোমার মেয়ের শাড়ির আচল সারাক্ষণ শেত শেতেই থাকে। মাঝে মধ্যে জন সমক্ষে হাউ মাউ করে কেঁদে ফেলে সে। এমন একজন দুখি মানুষকে আমরা কতক্ষণ কি বলব? তুমি আল্লাহর কাছে একটু আবদার কওে বলে দাও তোমার মেয়ে যেন দেশ ও ধর্মের শত্রুদের সাথে কোন সর্ম্পক না রাখে। তোমার স্বপ্নের দেশটার কথা একটু বলি। পশ্চিম পাকিস্তানের নির্যাতনের কাছে বন্দি ছিল তোমার জন্মভূমি। তোমার চোখে মুখে স্বপ্ন ছিল তাকের স্বাধীন করার। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের ডাক দিয়েছো তুমি। তোমাকে ভালবেসে জনগন নেমেছে রনময়দানে। ৯মাসের যুদ্ধে স্বাধীন হয় এ দেশ। আমরা জন্মেছি তোমার ডাকে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে। যুদ্ধে বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে সাজিয়ে তোলার আগেই তোমার বীরবক্ষ বিধ্বস্ত করলো শত্রুর বুলেট। সেই থেকে আজও গুছিয়ে উঠতে পারছে না এ দেশ। পেয়াজ কিনতে আমার বাবার পকেট খালি হতে দেখা যায়। কি কারনে এমনটি ঘটে তোমার মেয়ে কাদের কারনে এর তেমন প্রতিকার করতে পারে আমরা বুঝতে পারছি না। রোগ সেরে যাওয়ার দুইমাস পরে দেশে ভেক্সিন আসে। কেন এমন হয়? আমরা জানি না। দাদু আজ তোমার জন্ম দিন। তোমাকে না পেয়ে খুব ব্যথিত মনে তোমার কাছে চিঠি লিখছি। একদিকে বুকভরা কষ্ট নিয়ে তোমাকে লিখছি চিঠি, অন্যদিকে আমার পা দুটু ঝাঝরা করে ফেলছে তোমার দেশের স্বাধীন মশাবাহিনী। তোমার মেয়েকে কে বুঝাবে মশাদের এমন স্বাধীনতা দিও না। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামো। কেরশিনের ধোঁয়া ছিটিয়ে জনগনকে বুঝ দিও না। মশার ঔষধ ছিটাও। তোমার ভাল বাসার বাংলাদেশ আজ মশাদের নির্যাতনের শিকার। এভাবে দিন গেলে আমরা বাঁচবো কীভাবে? তোমার জন্ম দিনটিতে তুমি বেঁচে থাকলে হয়তো তোমাকেও মশার কামড় খেয়েই তা পালন করতে হতো। শত্রু-প্রতারব আর মশা এসবের কবলে আজ বাংলাদেশ কঠিনভাবে আক্রান্ত। এ দেশে আমাদের বেচেঁ থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমাদের বাচাঁতে তোমার মেয়েকে কিছু বুঝানোর প্রয়োজন। জানো দাদু তোমার মেয়ে আজ আমাদের কাছে চিঠি লিখেছে। আমাদেরকে বলেছে ভালভাবে লেখা পড়া করতে। আমরা কীভাবে বলবো মশার যন্ত্রনায় আমরা শান্তিতে পড়তে পারছি না। তোমার মেয়েকে একটু সাবধান করা দরকার- ধর্ম ও দেশের শত্রুদের থেকে। যারা তোমার দল আর তোমার মেয়ের দোহাই দিয়ে দেশে অরাজকতা করছে তাদের থেকে। তোমাকে জন্ম শত বার্ষিকীতে তোমাকে বড়ই খুশি লাগতো। কোথায় পাবো তোমাকে? বুকভরা বেদনা নিয়েই শেষ করছি

                                                              ইতি
                                              তোমার ছোট্ট ছোট্ট নাতী-নাতনী

Leave a Reply

Your email address will not be published.