মজার গল্পঃ কবরের তিন প্রশ্ন

আমাদের ইসলাম মজার গল্প হক কথা

এক লোক বহু বার আলেমদের কাছ থেকে শুনেছে যে, মৃত্যুর পর সবাইকে কবরে তিনটি প্রশ্ন করা হবে। যে ব্যক্তি সঠিক উত্তর দিতে পারবে তার জন্য জান্নাত, আর সঠিক উত্তর দিতে না পারলে তার জাহান্নাম। একদিন লোকটির মনে হলো সে আর হয়তো বেশী দিন দুনিয়াতে বাঁচবে না। তখন তার কবরের তিনটি প্রশ্নের কথা মনে পড়লো । তার মনে হলো সে হয়তো কবরের এই তিন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না। সে ভাবলো বাঁচতে হলে বিকল্প পথ বের করা দরকার, যাতে কবরের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে না হয় আর আমি মুক্তি পাই। হঠাৎ মাথায় একটি বুদ্ধি এলো। লোকটি তার ছেলেদেরকে ডেকে বলল, হে আমার আদরের সন্তানেরা! আমি হয়তো আর বেশী দিন বাঁচবো না। আমার সময় ফুঁরিয়ে এসেছে। শেষ সময় আমি তোমাদের নিকট একটি আবদার করবো তোমরা না বলবে না। আর কোন প্রশ্নও করবে না। ছেলেরা বলল আমরা আপনার আবদার রক্ষা করবো, আপনি বলেন। লোকটি বলল আমি মারা গেলে আকে পুরাতন সাদা কাপড় দিয়ে কাফন পড়িয়ে, পুরাতন বাঁশ-চাটাই দিয়ে একটি পুরাতান কবরে দাফন করে দিবে। ছেলেরা তাই করতে রাজি হলো। কয়েক দিন পার হতে না হতেই লোকটি মারা গেল। ছেলেরাও লোকটির কথা মতো পুরাতন সাদা কাপড় দিয়ে কাফন বানিয়ে, পুরাতন বাঁশ-চাটাই দিয়ে একটি পুরাতান কবরে দাফন করে দিল। লোকটিকে কবরে রেখে আসার একটু পরেই মুনকির নাকির ফিরিশতারা কবরে উপস্থিত হলো। ফিরিশতারা তাকে জিজ্ঞাসা করলো- মার রাব্বুকা- লোকটি উত্তর না দিয়ে ফিরিশতাদেরকে বলল, আপনারা দেখছেন না এটি একটি পুরাতন কবর। এক কবরের কয়বার জিগান (প্রশ্ন করেন)? কয়েক দিন আগেইতো এই কবরে প্রশ্ন করে গেলেন। আবার কেন প্রশ্ন। ফিরিশতারা অবাক হয়ে আল্লাহকে পুরা ঘটনার বর্ননা শোনান। আল্লাহ ফিরিশতাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন লোকটি এমন করলো কেন? ফিরিশতারা বলল, হে আল্লাহ লোকটি ভেবেছিল এমন বাহানা করলে হয়তো সে প্রশ্ন থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু আমাদেরকে ফাঁকি দেওয়া মোটেও সম্ভব না। যতই বাহানা করুক আমরা তাকে ছাড়ছি না। আল্লাহ ফিরিশতাদেরকে বললেন, লোকটি ভয় পেয়েই এমন বাহানা করেছে যাতে সে আমার আজাব থেকে বাচঁতে পারে। আমার দরকার হলো বান্দার দিলের তাকওয়া বা ভয় , সুতরাং তাঁকে ছেড়েদাও আমি তাকে মাফ করে দিয়েছি।
উপদেশঃ আল্লাহ তায়ালা মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন। মুত্তাকী মানে হলো খোদাভীরু। যারা আল্লাহকে, আল্লাহর আজাবকে, কবর, পরকাল, জাহান্নাম ইত্যাদিকে ভয় পায় তারাই হলো মুত্তাকী। মানুষের মনে তাকওয়া তৈরীর প্রধান মাধ্যম হলো সিয়াম সাধনা বা রোজা। তাই আল্লাহ পাক বলেন, আমি তোমাদের উপ অতীত লোকদের মতোই রোজা ফরজ করেছি যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.