মহান বিজয় দিবস

আর্ন্তজাতিক দেশের খবর সংবাদ হক কথা

সাদ্দাম হোসাইন-আবেদ
১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। বাঙালির জীবনে এক পরম আনন্দের দিন, স্বাধীন আকাশে মুক্ত পাখির মতো উড়ে বেড়াবার দিন। আজ বিজয়ের এই দিনে স্মরণ করছি আমাদের আতœত্যাগী ভাইবোনদের যারা তাদের প্রানের বিনিময়ে ফিরিয়ে এনেছেন আমাদের মাতৃভূমি। আজ আমরা আমাদের মাতৃভূমি নিয়ে গর্ব করি, বিজয় দিবস এলেই আনন্দে মেতে উঠি। কিন্তু কিভাবে এলো এই বিজয়, কি তার পেছনের ইতিহাস। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পটভূমিতে ১৯৫২ সালে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে ভাষার জন্য আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুন্থান এবং ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে জাতি ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে থাকে স্বাধীনতার দিকে। এরপর ১৯৭১ সাল ছিল বাঙালিদের জন্য মর্মান্তিক ও আনন্দময় সাল। বাংলার সেরা নায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। কিন্তু এদিকে ওত পেতে থাকে পাকিস্তানি হায়নার দলেরা। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ মধ্য রাতে অতর্কিত হামলা চালায় নিরস্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর। জ্বালিয়ে দেয় ঘরবাড়ি, ধ্বংস করে দেয় রাস্তাঘাট-দোকানপাট। নিরস্ত্র নারী-পুরুুষের, শিশু-কিশোর-তরুণের, যুবা-বৃদ্ধের রক্ত ধারায় রঞ্জিত করেছে বাঙলার শ্যামল মাটি আর নদীর স্বচ্ছ ধারাকে। শত সহস্্র মা বোনের ওপর চালিয়েছে পাশবিক নির্যাতন। অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজে তছনছ করেছে জনপদ। প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়েছে কোটি কোটি নিঃসম্বল মানুষ। কিন্তু এই অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জল্লাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল হাজার হাজার দেশপ্রেমিক। শেষ পর্যন্ত শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানিরা চেয়েছিল বাঙালিদের জীবন ও তাদের মাতৃভূমিকে হায়নার মতো গিলে ফেলবে। কিন্তু হুব্বুল ওয়া ত্বনি মিনাল ইমান। দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ। এই ইমানের চেতনায় দেশকে ভালোবেসে মরণকে ভয় না করে পাকিস্তানিদের সাথে এ দেশের ছাত্র-শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, ডাক্তার-প্রকৌশলী, কৃষক-শ্রমিক, নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রীস্টান সমগ্র জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল প্রতিরোধ সংগ্রামে। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের এই মরণ খেলায় ৩০ লক্ষ বাঙালি প্রাণ হারায়, ২ লক্ষ মা বোন তাদের সম্ভ্রম হারায়। কিন্তু লড়াকু এই সংগ্রামে বাঙালিদের সাথে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আতœসর্ম্পন করেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা। লক্ষ লক্ষ বাঙালিদের আতœত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল অস্ত্র হাতে উদ্ধত মুক্তিসেনারা। দেশপ্রেমের পবিত্র চেতনায় লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বিজয় দিবস। আর আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমরা জানি বিজয় দিবনের ঋন কখনো শোধ করবার নয়। তাই প্রতিটি বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মশাল করে আমাদের হতাশা ও নিরাশ্বাসকে পেছনের দিকে ঠেলে, প্রত্যয়ে ও সাহসে বুক বেঁধে দেশের উন্নয়নের লক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলেই আমাদের কাছ থেকে বিজয় দিবস পাবে তার সম্মানের সামান্যতম কিছু হাদিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.