মাওলানা বাবুনগরী, মামুনুল হক ও ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

সংবাদ

Day

Night


 হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে করা দুটি মামলা আমলে নিয়েছেন আদালত। মামলা দুটি আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালত এ আদেশ দেন।

এর মধ্যে একটি মামলার আর্জিতে হেফাজতে ইসলামের আমীর মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী, খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা আমলে নিয়েছেন আদালত।

অন্য মামলায় আসামি করা হয়েছে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সোমবার সকালে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে প্রথম মামলাটি করেন।

একই আদালতে দ্বিতীয় আবেদনটি করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর মালেক।

আমিনুলের মামলার আর্জিতে দণ্ডবিধির ১২০ (খ) (১)/১২৪ (ক)/ ৫০৫ (ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেখানে দাবি করা হয়েছে, ইসলামকে ‘ঢাল হিসেবে ব্যবহার’ করে আসামিরা ধর্মের ‘আজগুবি’ ব্যাখ্যা দিয়ে ‘বিদ্বেষপূর্ণ, কাল্পনিক, উত্তেজনাকর ও উসকানিমূলক’ বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা বাঙালি মুসলমান সমাজের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও সংবিধান সম্পর্কে ‘বিদ্বেষ সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন।

মশিউর মালেকের অপর মামলার আর্জিতে দণ্ডবিধির ১২০ (খ)/১৫৩/১২৪ (ক)/ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, মামুনুল হক ঢাকার বিএমএ মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ‘ভেঙে ফেলার হুমকি দেন’, যা দেশ ও সরকারের স্থিতিশীলতাকে ‘হুমকির মুখে’ ফেলে দিয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক সোমবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে  গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া কিংবা ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো কোনো দিক-নির্দেশনা অথবা বক্তব্য আমি কখনোই দেইনি। সুতরাং এই জাতীয় কোনো কাজের দায়ভার আমার ওপর চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।’

প্রসঙ্গত, ১৩ নভেম্বর ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলার মাঠে ‘তৌহিদি জনতা ঐক্যপরিষদের’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হয়। এতে বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা ফয়জুল করীম।

একই দিনে রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শানে রিসালাত কনফারেন্সে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করেন।

এর পর গত ২৭ নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে এক মাহফিলে অংশ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী  বলেন, মদীনার সনদে দেশ চলবে।সূত্র: ইসলাম টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published.