মুনাজাত ও আখেরী মুনাজাত

আমাদের ইসলাম হক কথা

যেকোনো সময় আমাদের সাথে যুক্ত হতে ডাউনলোড করুন আমাদের হক কথা এ্যাপ:

App Link- http://bit.ly/app_haquekotha

মুনাজাত অর্থ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা বা চাওয়া। নবী আঃ দোয়ার ব্যাপারে বলেছেন-দোয়াই একটি ইবাদত বা দোয়াই ইবাদতের মগজ। বিশ্ব ইজতিমার ৫৫তম আসর শেষ হওয়ার দিকে। তিন দিনের কর্মসূচী শেষে গতানুগতিকভাবেই দোয়ার মাধ্যমে শেষ হবে ইজতিমাপর্ব। ইজতিমার এই মুনাজাত নিয়ে ভ্রান্তপন্থিরা কিছু ভ্রান্তিও ছড়ায়। ইজতিমা আসলে কি? বিষয়টি আমাদের পরিস্কার ধারনা থাকা দরকার। ইজতিমাকে টার্গেট করে ইজতিমার আগে একটি জোড় অনুষ্ঠি হয়। জোড় থেকে বহু লোককে চিল্লার জন্য পাঠানো হয় সাড়া দেশে। তাদের চিল্লা শেষ হলে সাড়া দেশের চিল্লাওয়ালা সাথীরা এক মাঠে একত্রিত হওয়ার রেওয়াজ চালু আছে। একেই ইজতিমা বলে। ইজতিমা ওয়ালাদেরকে এই ময়দানে মুরব্বি সাথীগন বেশ কিছু হেদায়াতী কথা বলেন, যা সকল লোকেরই শুনার উপযোগী । এই ময়দানে হেদায়াতী কথার মাধ্য আরও কিছু লোককে চিল্লার জন্য এবং চিল্লা ওয়ালাদেরকে তিন চিল্লার জন্য উদ্বোদ্ধ করা হয়। চিল্লার সথী বৃদ্ধি করা ও ব্যাপকভাবে দাওয়াতো তাবলীগের কাজকে বেগবান করা এবং সাড়া বছরের দাওয়তী কাজের হিসাব নিকাশ কসা এই ইজতিমার মূল উদ্দেশ্য। আখেরী মুনাজাত ইজতিমার মূল উদ্দেশ্য নয়। দোয়ার মাধ্য দ্বীনের কাজে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ইজতিমা পর্বের সমাপ্তি ঘটানোই এই মোনাজাতের উদ্দেশ্য। আর এটা সিদ্ধ কাথা যে আল্লাহর কাছে চাওয়া ছাড়া পাওয়া যায় না। আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সফল হওয়া যায় না। হাদীসে পাকে ইরশাদ হয়েছে – যে আল্লাহর কাছে চায় না আল্লাহ পাক তার প্রতি বেজার। আল্লাহ পাক বলেন-

*وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُوْنِىْ اَسْتَجِبْ لَكُمْ
অর্থঃ-তোমাদের পালন কর্তা বলেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া করো (কিছু চাও)
আমি তোমাদে দোয়া কবুল করবো (সূরাঃ মুমিন,৬০)।

  • اُجِيْبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ اِذَا دَعَان অর্থঃ যারা দোয়া করে আমি তাদের দোয়া কবুল করে
    থাকি।

মুনাজাতে হাত উঠানো
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّ اللهَ حَيِيٌّ كَرِيمٌ يَسْتَحْيِي اِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ اِلَيْهِ يَدَيْهِ اَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا خَائِبَتَيْنِ
(ترمذي، باب دعاء النبي صلى الله عليه وسلم، ২॥১৯৫، رقم الحديث- ৩৪৭৯)
হযরত সালমান ফারসী রা. থেকে বর্ণিত রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ বড় দয়ালু দাতা। যখন বান্দাহ তার কাছে দোয়ায় হাত উঠায় তখন তা তিনি খালী ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ
করেন।

৯। কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে দোয়া করা প্রসঙ্গে। عَنْ سَلْمَانَ رضي الله تعالى عنه قال : قال رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:” ما رفع فوم اكفهم الى الله عز وجل يالونه شيئا، الا كان حقا على الله ان يضع في ايدهم الذي سالوه” (معجم الكبيري للطبراني، رقم الحديث – ২০১৯)

হযরত সালমান রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, যখন কিছুলোক হাত তুলে আল্লাহ তালার কাছে চায়, তখন আল্লাহ তালার কাছে হক হয়ে যায় যে তাদের চাওয়া জিনিস তাদেরকে দান করেন।

মুনাজাতের সুন্নতসমূহ।

১। মুনাজাতের শুরুতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা এবং রাসূল সা. এর উপর দরুদ শরীফ পাঠ
করা।
২। নি¤েœর দোয়া দ্বারা মুনাজাত শুরু করা।
اَلْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلي خَيْرِ خَلْقِهِ مُحَمْدٍ وَعَلي اَلِهِ وَاَصْحَابِه اَجْمَعِيْنَ
অথবা
اَللَّهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ
অথবা।
اَللَّهُمَّ اَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْكَ السَّلَامُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْاِكْرَامِ
৩। উভয় হাত বুক বরাবর উঠানো।
৪। হাতের তালু আসমানের দিকে প্রশস্ত করে রাখা।
৫। হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিকভাবে ফাঁকা রাখা।
৬। দুই হাতের মাঝখানে সামান্য ফাঁকা রাখা।
৭। মন দিয়ে কাকুতি-মিনতি করে দোয়া করা।
৮। আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়ার বিষয়টি বিশ্বাস ও দৃঢ়তার সাথে বারবার চাওয়া।
৯। আস্তে আস্তে ধীরে ধীরে দোয়া করা মুস্তাহাব।
১০। আল্লাহ তায়ালার প্রশংসার মাধ্যমে মুনাজাত শেষ করা। যেমন- سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُوْنَ وَسَلَامُ عَلَي الْمُرْسَلِيْنَ وَالْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ
১১। মুনাজাত শেষে রাসূল সা. এর প্রতি দরুদ শরীফ পাঠ করা।
১২। আমীন বলে দুই হাত মুখম-লে মুছে ফেলা।

মুনাজাতের ক্ষেত্রে ভূলসমূহ
১। অনেকে মুনাজাতের সময় উভয় হাত কাধ খেকে উপরে উঠিয়ে ফেলে যা ঠিক নয়।
২। অনেকে দুই হাত অনেক ফাঁকা রাখে বা খুবই মিলিয়ে রাখে- যা ভূল।
৩। মুনাজাতের শুরুতে আমীন বলে মুনাজাত শুরু করা একদম ভূল।
৪। মুনাজতের শেষে বাহাক্কে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা মারাত্মক ভূল। সবসময় এমনটা
করা বিদআত।
৫। অনেকে ফরজ নামাজের সালামের সাথে সাথে দোয়া দরুদ না পরে দ্রুত সুন্নতে দাড়িয়ে
যান যা ঠিক নয়। খুব জরুরত না থাকলে ফরজ নামজের পর কিছু সময় দোয়া দরুদ
জিকির আযকার, তাসবীহ পড়া উচিত। তবে মাগরীবের সুন্নত খুব বেশী দেড়ী করা ঠিক
নয়।
৬। ফজর ও আসরের নামাজ ছাড়া অন্য নামাজের পর জোরে দোয়া করা ঠিক নয় ।
মাসবুকের নামাজে ব্যঘাত ঘটলে নাজায়েজও বটে। ফজর ও আসরের নামাজেও
মসুকের দিকে খেয়াল রেখেই আওয়াজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.