রাতে ঘুমানোর আগে কয়েকটি সুন্নতী আমল

আমাদের ইসলাম হক কথা

Day

Night


১. ঘুমানোর দুয়া পড়া : ডান কাতে শুয়ে ঘুমানো সুন্নত। ডান কাতে শুয়ে ঘুমানোর আগে এই দুয়া পড়তে হবে- اللَّهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوتُ وَأَحْيَا

উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া। অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মৃত্যুবরণ করছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হবো। (সহীহ বুখারী)

ঘুম থেকে উঠে যেই দুয়া পড়তে হয়- الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا، وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

উচ্চারণঃ আলহা’মদু লিল্লা-হিল্লাযী আহ্ইয়া-না- বাঅ’দা মা- আমা-তানা- ওয়া ইলাইহিন্-নুশুর।

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি (নিদ্রারূপ) মৃত্যুর পর আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করেছেন, আর আমরা সবাই তাঁরই কাছে ফিরে যাবো। (সহীহ বুখারী)

২. তাসবীহ’, তাহ’মীদ ও তাকবীর পাঠ করা : ৩৩ বার তাসবীহ (সুবহা’নাল্লাহ), ৩৩ বার তাহ’মীদ (আলহা’মদুলিল্লাহ) ও ৩৪ বার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পাঠ করার ফযীলতঃ

ক. কারো একজন দাস থাকলে দিনে-রাতে যে সেবা-যতœ ও সাহায্য করতো তার থেকেও বেশি উপকার পাওয়া যাবে এই আমল করলে।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা আমার কাছে আটা পেষার দরুন তার হাতে ফোসকা পড়ে যাওয়ার অভিযোগ করলেন। আমি বললাম তোমার পিতা (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে গিয়ে যদি একটা খাদেমের আবদার জানাতে।

(ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে খাদেম দেওয়ার কথা বললেন তখন) তিনি (রাসুল) বললেনঃ তোমার জন্য কি খাদেমের চাইতে উত্তম কোন কিছু বলব না? (তা হল) তোমরা যখন তোমাদের শয্যাগ্রহণ করবে তখন আলহা’মদু লিল্লাহ ৩৩ বার, সুবহা’নাল্লাহ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পড়বে। (সুনানে আত-তিরমিজি)

খ. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “যখন শয্যাগ্রহণ করবে তখন সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করবে একশত বার। এটা তোমাদের যবানে তো হল একশ, কিন্তু মীযানের পাল্লায় হবে এক হাজার (নেকী)। (সুনানে আত-তিরমিজি)

৩। সুরা ইখলাস পাঠ করা (৩ বার) : সুরা ইখলাস ৩ পাঠ করলে এক কুররান খতম করার সমান ছাওয়াব পাওয়া যায় এবং ১০ বার পাঠ করলে তার জন্য জান্নাতে একটা বাড়ি বানানো হয়। (সহীহুল বুখারী, নাসায়ী, আবু দাউদ)

৪। ঘুমানোর আগে সুরা কাফিরুন পড়া (১ বার) : শিরক থেকে বাচতে সাহায্য করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- “এই সুরাটিতে শিরক থেকে বাঁচার শিক্ষা রয়েছে।” (আবু দাউদ)

৫। সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া ১ বার।

ক. রাত জেগে তাহাজ্জুদ নামায পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে

খ. বালা-মুসিবত ও যেকোনো ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।

গ. জিন ও শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য যথেষ্ঠ হবে।

ঘ. আয়াতগুলো পড়ে শেষ ‘আমিন’ বললে আয়াতগুলোতে যেই দুয়া রয়েছে সেইগুলো আল্লাহ তাআ’লা কবুল করে নেন।

উক্ত দুই আয়াতের এ ফযিলতের কারণেই হযরত আলী (রাঃ) বলেন- “আমার মতে যার সামান্যও বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে যেন এ দুটি আয়াত পাঠ করা ছাড়া নিদ্রা না যায়।”

৬। আয়াতুল কুরসী পাঠ করা ১ বার : সকাল পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী ফিরিশতা তাকে নিরাপত্তা দেবে। এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান তার ধারে-কাছেও আসতে পারবে না। (সহীহ বুখারী)

৭। সুরা মুলক পড়া : প্রতিদিন (দিনে বা রাতে যেকোনো এক সময়) সুরা মুলক মুলক তেলাওয়াত করা গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত : “রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আলিফ লাম মীম তানজিলুল কিতাব (সুরা আস-সাজদা) ও তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (সুরা মুলক) তেলাওয়াত না করে কোনদিন ঘুমাতেন না”। (সুনানে আত-তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ)

* এই সুরাটি নিয়মিত প্রতিদিন তেলাওয়াত করলে কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রতিদিন রাতের বেলা সুরা মুলক তেলাওয়াত করবে আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন। (সুনানে আন-নাসায়ী)

**এই সুরা প্রত্যেকদিন রাতের বেলা তেলাওয়াত করলে কিয়ামতের দিন শাফায়াত করে জান্নাতে নিয়ে যাবে ইন শা’ আল্লাহ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “কুরআনে এমন একটা সুরা আছে যার মধ্যে ৩০টা আয়াত রয়েছে যেটা একজন ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। আর সেটা হলো সুরা মুলক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.