রোগী দেখে পালায় ডাক্তার-নার্স

দেশের খবর

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটের সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে এই ইউনিটে মারা গেছেন ৩৯ জন। ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, আইসিইউতে চিকিৎসক ও নার্সরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না- রোগী দেখে দৌড়ে পালান ডাক্তার-নার্স। সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পরে এখানে আইসিইউ ইউনিট স্থাপন হয়েছে। গত ৩ জুন ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউসহ ১৫৪ শয্যার করোনা ইউনিটের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। ১০ বেডে আছেন পাঁচজন চিকিৎসক। সেখানে রয়েছে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ। নেই সিসি ক্যামেরা। তদারকি করা যাচ্ছে না কার্যক্রম। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিশা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন বলেন, গত ১৪ জুন তার বাবা শফিকুর রহমান করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। ভর্তি হওয়ার একদিন পর তার বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে আইসিইউতে নেওয়া হয়।  সেখানে নেওয়ার পর সেখানকার ডাক্তার, নার্সরা  দৌড়ে পালিয়ে যান। তাদের অনেক বলেও কোনো কাজ করানো যায়নি। তিনি নিজে বাবার মাস্ক পরিয়েছেন। বাবা নিজের অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেললে তার মৃত্যু হয়। তার দাবি, ডাক্তার নার্স উপস্থিত না থাকার কারণে এবং আইসিইউতে সঠিকভাবে যত্ন না নেওয়ায় তার বাবার মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমাইয়া আফরিন সানি বলেন, সম্প্রতি তার বাবা কলেজ অধ্যক্ষ আবদুর রহিমকে কুমেক হাসপাতাল আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রোগী ভর্তি করতে গিয়ে মনে হলো কোনো স্টাফ নেই। নিজেদের ট্রলি ঠেলতে হয়। রোগী রিসিভ করার পর তাদের আর পাওয়া যায়নি। তার বাবা বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। তার কোনো ওষুধ নেওয়া হয়নি। কোনো খাবার নেওয়া হয়নি। বাইরে থেকে তার জন্য ওষুধ কেনা হলেও তা অক্ষত দেখা গেছে। তাকে বিকালে ভর্তি করাই। পরের দিন দুপুরে জানানো হয় তিনি মারা গেছেন। ধারণা করছি চিকিৎসা অবহেলায় তিনি মারা গেছেন। চিকিৎসক স্টাফ আরও বাড়ানো প্রয়োজন, এ ছাড়া তদারকিও বাড়াতে হবে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা বেগম জানান, গত ১৫ দিনে করোনা চিকিৎসার পৃথক তিনটি ইউনিটে মোট ৪০২ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি হন ১০৪ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৫৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন  ৩৫ জন। মারা যান ১১ জন। পালিয়ে যান তিনজন, রোগীর স্বজনরা বাড়ি নিয়ে যান একজনকে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয় ২২৬ জন। চিকিৎসাধীন ৪৬ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১২৭ জন, মারা যান ৪২ জন। পালিয়ে যান তিনজন, রোগীর স্বজনরা বাড়ি নিয়ে যায় পাঁচজনকে, রেফার করা হয় দুজনকে। আইসিইউ ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন। এর মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আটজন, বাড়ি ফিরেছেন ২০ জন, মারা গেছেন ৩৯ জন। রোগীর স্বজনরা নিজেরা চিকিৎসা দেবে বলে নিয়ে গেছেন চারজনকে। রেফার করা হয়েছে একজনকে। এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুজিবুর রহমান জানান, আইসিইউতে যারা দায়িত্ব পালন করছেন তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা তা বোঝা যাচ্ছে না।সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.