রোজা নিয়ে মজার গল্প

আমাদের ইসলাম মজার গল্প হক কথা

আমাদের সাথে যুক্ত হতে ডাউনলোড করুন আমাদের হক কথা এ্যাপ:App Link- http://bit.ly/app_haquekotha
এমন এটি গ্রাম ছিল, যে গ্রামের লোকেরা ধর্ম-কর্মের ব্যাপারে ছিল বেশ অজ্ঞ ও উদাসীন । নামাজ রোজার ব্যাপারে তারা তেমন কিছ্ুই জানতো না। ফলে তা মানতোও না। একবার রমজান মাসের আগ দিয়ে দূর এলাকা থেকে একজন বয়স্ক হুজুর হঠাৎ এই গ্রামে আসেন। তিনি এসে জানতে পারেন এই এলাকার বাসিন্দারা রমজান মাসেও রোজা রাখেন না। তিনি এলাকার লোকজনকে একবাড়ির উঠানে একত্রিত করলেন । তিনি তাদের সামনে রোজার অনেক ফজিলত, সাওয়াব,উপকার ও পরকালের মুক্তির কথা আলোচনা করলেন। গ্রামবাসি খুব মনযোগ দিয়েই হুজুরের কথাগুলো শুনলেন এবং প্রভাবিত,উৎসাহিত হলেন। তারা সকলেই সিদ্ধান্ত নিলেন এবার তারা সবাই অবশ্যই রোজা রাখবেন। হুজুর তাদের রোজা রাখার কথা শুনে খুশি হলেন এবং বললেন, আজ ভোর রাত থেকেই তাহলে তোমরা রোজা রেখো। এক মাস রাখবে। আমি আবার এক মাস পরে এসে খবর নিবো তোমরা রোজা রেখেছো কি না। রোজা রাখলে এক মাস পরে আমি তোমাদেরকে ঈদের ঘোষণা দিব। সে দিন তোমরা আনন্দ করবে। মাওলানা সাহেব তাদেরকে রোজা রাখতে রাজি করিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে গেলেন। সন্ধ্যায় গ্রামের লোকজন আবার উঠানে সমবেত হলো। কারন রোজা কী জিনিস? কীভাবে রাখতে হয় তা তাদের জানা ছিল না। আর এ ব্যাপারে হুজুরের কাছেও জেনে রাখা হয় নি। হুজুরও চলে গেছেন, এখন উপায় কী? তাই তারা সাবাই একত্রিত হয়ে পরামর্শ করতে ছিল কীভাবে কী করা যায়? এদের মধ্যে একজন পরামর্শ দিল- যেহেতু হুজুর বলেছেন রোজা ভোর রাতে রাখতে হবে, সেহেতু বোঝাই যায় যে রোজা লোকালয়ে পাওয়া যায় না, রোজা অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে। সুতরাং আমার মনে হয় ভোর রাতে যদি আমরা আামদের গ্রামের জঙ্গলটা খুঁেজ দেখি, তাহলে সেখানে আমরা রোজা পেয়েও যেতে পারি । তার পরামর্শটা সাবার কাছে মোটামোটি পছন্দ হলো। পরামর্শ মোতাবেক ভোর রাতে গ্রামের লোক জন সবাই একত্রিত হয়ে একটি ছোট্ট জঙ্গল ঘেরাও করলো। একটি শিয়াল ও তার ছোট্ট একটি ছানা লুকিয়ে ছিল এই জঙ্গলে । জঙ্গলের চার পাশের অবস্থা বেগতিক দেখে শিয়াল তার বাচ্চাটাকে মুখে কামড়ে ধরে জান বাঁচানোর তাগিতে একদিকে দৌড়ে ছুটলো। গ্রাম বাসি হাক-ডাক দিয়ে ছুটলো শিয়ালের পিছে। ধর.. ধর… তাড়া তাড়ি ধর, পালিয়ে যাচ্ছে রোজা । গ্রামবাসির হাত থেকে শেষ রক্ষা হলো না শিয়ালের। অনেক কষ্ট করে শিয়াল ও তার বাচ্চাকে তারা আটকিয়ে মেরে ফেলল। শিয়াল ও তার বাচ্চাটাকে মেরে তারা তাদের নেতাকে জিজ্ঞাসা করলো- বস! বড়টাতো রোজা, ছোটটা কি? হুজুরতো শুধু রোজা রাখতে বলেছেন, তাহলে ছোটাটা কী করবো? নেতা বলল, ছোটটাও রেখে দাও, বলা যায় না হুজুর ছোটটাও চাইতে পারে । চাইলে পরে পাইবো কোথায়? যেহেতু রোজা ত্রিশ দিন রাখতে হবে তাই তারা বুদ্ধি করে শিয়াল ও তার বচ্চার পেটের নাড়ি ভুড়ি ফেলে দিয়ে রোদে শুকিয়ে শুটকি বানিয়ে ঘরের মাচার উপর রেখে দিল। দেখতে দেখতে মাস ফুরিয়ে এলো। আবার মাওলানা সাহেব এই গ্রামে আসেন জনগনের রোজার খবর নেওয়ার জন্য। তিনি এসে আবারও এক বাড়ির উঠানে সবাইকে ডেকে একত্রিত করে তাদের রোজার খোঁজ খবর নিতে শুরু করলেন। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন এক মাস রোজা রাখতে তোমাদের কী খুব কষ্ট হয়েছে? তারা বলল, না তেমন কোন কষ্ট হয় নি। তবে প্রথম দিন বেস কষ্ট হয়ে ছিল। বেশ বড় ও শক্তিশালী রোজা। আমাদেরকে সারা রাত খাটিয়েছে। তিন জঙ্গল ঝাপটা ঝাপটি করে হলেও শেষ পর্যন্ত আমরা রোজাটা ধরে ফেলেছি। কারণ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যত কষ্টই হউক হুজুরের হুকুম এবার পালন করেই ছাড়বো। প্রথম রাতের পর আমাদের কোন কষ্টই হয় নি। কারন আমরা রোজাকে শুকিয়ে একদম শুটকি বানিয়ে যতœ করে রেখে দিয়েছি। কোন কষ্ট হয় নি। আপনার দোয়ায় এখনো রোজা একদম টাটকা আছে । তাদের কথা শুনে হুজুর একদমই অবাক হয়ে হা করে থাকলেন । কী বলছে ওরা? রোজার সাথে ওদের কথারতো কোন মিল পাচ্ছেন না তিনি? হুজুরকে অবাক তাকিয়ে থাকতে দেখে এক নেতা ডেকে বলছে, কইরে একজনে নিয়ে আয় রোজা । রোজা আনবে মানে? এ কথা শুনে হুজুর আরও অবাক। এক জনে দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এলো- মরা শিয়ালের শুটকি। হুজুর এ অবস্থা দেখে বিষ্ময়ে বিস্ফারিত। তাদের কীর্তি কান্ড দেখে হুজুর বললেন- লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। একজন দাড়িয়ে বলল, দেখলা আমি আগেই বলেছিলাম ছোটটাও রেখে দাও , হুজুর তাও চাইতে পারে। এবার যাও লা হাওলাা নিয়ে আসো। এক জনে দৌড়ে গিয়ে শিয়ালের মরা বাচ্চা নিয়ে এলো। হুজুর হাল হাকিকত দেখে অবাক হয়ে সবাইকে বুঝালেন আসলে তোমরা যা করছো মোটেও ঠিক করছো না। তোমরা একের পর এক ভুল করে যাচ্ছো। কোন বিষয় না বুঝে থাকলে সময় মতোই তা বুঝে নিতে হয় না হয়তো ঝামেলায় পড়তে হয়।এবার মাওলানা সাহেব সবাইকে রোজা নামাজ শিখিয়ে ভুল ভাঙ্গিয়ে দিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে এলেন।

উপদেশঃ
*অনেকে সাধারণ লোককে স্পষ্ট কিছু না বুঝিয়েই ছেড়ে দেয় ফলে উম্মত বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় এবং না বুঝে উম্মত মনগড়া আমল করতে থাকে।
*কোন কিছু না বুঝে নিজেরা ইজতিহাদ করে তার উপর আমল করা ঠিক নয়। এতে আরও ভ্রান্তি বৃদ্ধি পায়।

*সময় মতো প্রশ্ন করে জেনে না নিলে পরে বেশ বেকায়দায় পড়তে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.