শরীরের চুল ও তার বিধান

Uncategorized হক কথা


মহান আল্লাহ তায়ালা মানব জাতিকে উত্তম আকৃতিতে সুশোভিত করতে মাথা থেকে পা পর্যন্ত মানব দেহকে বিভিন্ন প্রকৃতির পশম দিয়ে আবৃত করেছেন। শরিরের পশমগুলোও মহান আল্লাহ পাকের কুদরতের বার্তাবাহক। মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ ঘিরে /ঢেকে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পশম। কোথাও বড়,কোথাও, মধ্যম আর কোথাও ছোট আকৃতির পশম। সব ধরনের পশমেরই রয়েছে নির্দিষ্ট পরিমাপ। পরিমাপে পৌঁছেই পশম বৃদ্ধি এক কুদরদী কারণে থেমে যায়। কোন পশম উভরে ফেললেও কোন এক অলৌকিক কারণে সেখানে আবার পশম গজিয়ে উঠে। লিঙ্গ ভেদে পশম প্রকৃতিতে রয়েছে যথেষ্ট ভিন্নতা । সকল পশমের উপকারীতা ও বিধানে রয়েছে বৈষম্য। নাক, কানসহ দূর্গম অঙ্গের পশমগুলো পোকা -মাকড়,ধুলা-বালি প্রতিরোধের শক্ত দেয়াল। চোখের পালক নিরাপদ নয়নের অঘুম্য পাহারাদার। পশমবিধানে শরিয়তের মতামতে রয়েছে বিশেষ বরকত। উপকার ও অশেষ সাওয়াব। তাই আমরা মানব-মানবীর দেহলোমের শরয়ী বিধানের আলোচনার প্রয়াস পাবো।
মাথার চুল-পুরুষের মাথার চুলের শরী বিধান হলো- তিন ধরনের
চুল রাখা সুন্নত-ক. মাথা মুন্ডিয়ে রাখা।
খ. পুরা মাথার চুল সমানভাবে ছেটে বা কেটে রাখা
গ. বাবড়ী (বড়) চুল রাখা। বাবড়ী চুল তিন ধরনের হতে পারে-১। অফরা, কানের লাতি পর্যন্ত,২। লিম্মা-ঘাড়ের মধ্যভাগ পর্যন্ত,
৩। জিম্মা-ঘাড়ের নিচের উচা হাড্ডি পর্যন্ত।
পুরুষের জন্য এর ব্যতিক্রম চুল রাখা সুন্নত পরিপন্থি, নিষেধ ও গুনাহ।
নারীদের মাথার চুলের শরয়ী বিধান- মাথা চুল বাড়তে দিতে হবে, প্রাকৃতিকভাবে যতটুকু যায়। অকারনে ছেটে কেটে ছোট করা বৈধ নয়। ( কোথাও এলোমেলো থাকলে তা গুছি সুন্দর করার প্রয়োজনে সামান্য পরিমান কাটা বা ছাটা। মাথার কোন রোগের কারনে বিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে কাটা বা ছাটা জায়েজ আছে।)
চোখের ভ্রু- পুরুষের ভ্রু কোন ভাবেই উভড়ে ফেলা বৈধ নয়। একান্ত প্রয়োজনে কাটা ছাটা যেতে পারে।
চোখের ভ্রু নারীর সৌন্দের্যে যদি মারাত্মক প্রভাব ফেলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভ্রু উভরে ফেলা, কাটা,ছাটা বৈধ। তবে যথা অযথা শুধু সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করার জন্য ভ্রুতে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়।
চোখের পালক- চোখের পালক কাটা ছাটা নারী পুরুষ কারও জন্যই ঠিক নয়-বরং কারও চোখের পাল উঠতে থাকলে তা খাবার খাদ্য বা ঔষদের মাধ্যমে বাড়িয়ে তোলার ব্যাবস্থায় রয়েছে অনেক সাওয়াব। কারন পালক হলো চোখের নিরাপত্তার সজাগ পাহারাদার। চোখ আল্লাহর নিয়ামসমূহের বিশেষ নিয়ামত । দুটি চোখ দুটি জান্নাত, হাদিসের ভাষ্যে তাই বুঝা যায়।
মোচ- পুরুষের বিশেষ পশম মোচ- যা পুরুষে পৌরুষত্বে প্রমান। মোচ-সাধ্যমত খাটো রাখা সুন্নত। সৌন্দর্য হানী না হওয়া পর্যন্ত বড় রাখার অনুমতি রয়েছে। মোচ ভিজা পানীয় পান করা হারাম বলে আমাদের সমাজে একটি প্রবাদ রয়েছে, শরীয়তে এমনটির কোন প্রমান নেই। মোচ ছেচে ফেলা মাকরুহ- যার কারনে সাওয়াব হয় না। দৈহিক গঠনে নারী মোচ মুক্ত। এর পরেও কোন নারীর মোচ গজালে তা তুলে ফেলা, কেটে ফেলাই উত্তম।
দাড়ি- পুরুষের বীরত্বের প্রমান দাড়ি। চোয়ালের হাড্ডির উপরের পশমকে দাড়ি বলে। চোয়ালের হাড্ডির বাইরে গাল ও গলার পশম কাটার অনুমতি রয়েছে। গাল গলার পশম পুরুষের সৌন্দর্যের ব্যঘাত ঘটালে কেটে ফেলাই উত্তম। সৌন্দর্যের ব্যঘাত না ঘটালে রাখাই উত্তম। দাড়ি সকল আম্বিয়াদের সুন্নত। এক মুষ্টি দাড়ি রাখা ওয়াজিব। ডান, বাম ও নিচে সব দিকেই এক মুষ্টি হতে হবে। এক মুষ্টির কম রাখা মাকরুহে তাহরিমী এবং ফাসেকী-যা মারাত্মক গুনাহের কারন। এটি গুনাহে জারিয়া। দাড়ি এক মুষ্টি হওয়ার আগ পর্যন্ত গুনাহ অনবরত হতে থাকে। ফাসেক ব্যক্তি ইমামতির অযোগ্য। নারীর প্রকৃতি দাড়িহীন মোখমন্ডল। অনেক সময় ব্যতিক্রম হয়ে থাকে। নারীর গালে দাড়ি গজিয়ে ভারি হয়ে উঠে যা কেটে ফেলার অনুমতি রয়েছে।
বগলের পশম- পুরুষ বা নারী যারই বগলে পশম গজাবে, টেনে তুলে ফেলা সুন্নত। লোম নাশক ক্রিম বা ধারালো যন্ত্রের মাধ্যমে পরিস্কার করার অনুমতি রয়েছে। সেলুনে বা লোকালয়ে এ কাজ করা স্পষ্ট র্নিলজ্জতা ও শালিনতা পরিপন্থি। প্রচন্ড গরমে বোগলে ঘা বা ফোসকা পড়ার থেকে বাচাতে বোগলের পশম দারুন উপকার করে।
নাভির নিচের পশম- নাভির নিচের ও গুহ্যদ্বারের পশম সপ্তাহে একবার পরিস্কার করা সুন্নত। চল্লিশ দিনের ভিতরে হলেও একবার পরিস্কার করা। চল্লিশদিনের বেশী সময় পরিস্কার না করে থাকা অশালিনতা ও গুনাহ। চল্লিশ দিনের বেশী পরিস্কার না করে রাখলে নামাজ রোজা হয় না বলে লোকমুখে শোনা কথার কোন ভিত্তি নেই। এসব পশম গুলো ছাড়া শরীরের অন্য কোন লোম বা পশম একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ছিড়া,কাটা, উভরে ফেলা জায়েজ নয়। প্রয়োজনে জায়েজ আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.