শিশুকে মূল্যবোধ শিক্ষা দিন

ভিন্ন খবর

শিশুরা জান্নাতের পাখি। শিশুদের মাঝেই আমরা স্বপ্ন খুঁজি। স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন বুনি। পারিবারিক শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন শিশুদের আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

তাই শিশুদের মেধা বিকাশে ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশু বয়সেই মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষা দেয়া খুবই জরুরি। ইসলামের দৃষ্টিতে শিশুর আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি তার সুশিক্ষা ও চরিত্র গঠনের দায়িত্ব প্রথম বাবা-মায়ের ওপরই বর্তায়।

শিশুর প্রথম শিক্ষক হলেন মা। মা যদি আলোকিত মানুষ হন, মানবিক গুণে তার হৃদয় থাকে সজ্জিত, তাহলে তার কোলের শিশুটিও সুন্দর জীবনের অধিকারী হবে; হবে আলোকিত মানুষ। ইসলামের নির্দেশনা হল শিশুকে মা-বাবা পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তাদের সঙ্গে সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

শিশুরা স্বভাবজাতই অনুকরণপ্রিয়। পারিপার্শ্বিক অবস্থার সঙ্গে খাপখাইয়ে তারা বেড়ে ওঠে। একটি শিশুকে তার পরিবার, শিক্ষক, বন্ধুবান্ধব কিংবা প্রতিবেশীরা দারুণভাবে প্রভাবিত করে। যেসব শিশু ভালো পরিবেশে বড় হয় তারা চরিত্রবান হয়। বিদ্যান ও বুদ্ধিমান হয়।

তাই মা-বাবাকে শিশুর শারীরিক যত্নের সঙ্গে সঙ্গে তার মানসিক বিকাশে পূর্ণ মনোযোগী থাকতে হবে। রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা সন্তানদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করো এবং সদাচরণ ও শিষ্টাচার শিক্ষা দাও (তিরমিজি)।

ইমাম গাজালি (রহ.) বলেন, ‘শিশু হচ্ছে মা-বাবার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত। শিশুর পবিত্র আত্মা সব রকমের গ্লানি থেকে মুক্ত একটি সাদা খাতা। নির্মল ক্যানভাস ও উর্বরভূমি। এখানে যা কিছুই আঁকা হবে সে তাই গ্রহণ করবে। যে বীজই বপন করা হবে নিশ্চিত তা ফলধর গাছে পরিণত হবে।

রাসূল (সা.) বলেন, তোমাদের সন্তানদের উত্তমরূপে জ্ঞান দান কর, কেননা তোমাদের পরবর্তী যুগের জন্য তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে (মুসলিম)। সুতরাং যদি শৈশবেই তাকে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়া হয়, তাহলে সে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।

মা-বাবা ও অভিভাবকদের বুঝতে হবে শিশুকাল খুবই অল্প সময়। এ সময় সন্তানের পাশে থাকুন। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তার সামনে স্পষ্ট করুন। তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে গিয়ে শাসন থেকে একবারে উদাসীন হওয়া যাবে না। আবার শাসনের নামে সীমাতিরিক্ত কিছু করা যাবে না। শিশুকালের পর কিশোর বয়স থেকেই তাকে নামাজের আদেশ করতে থাকুন।

রাসূল (সা.) বলেন, ‘সন্তানের বয়স সাত বছর হলে নামাজ শিক্ষা দাও! এবং দশ বছর হলে নামাজের জন্য তাকে প্রহার কর।’ যে সন্তান কিশোর বয়সে পা দেয়ার আগেই নামাজে অভ্যস্ত হয়ে যায়, সে কখনও মা-বাবার অবাধ্য হতে পারে না। সমাজ ও বংশের মুখে দাগ লাগে এ রকম কিছু করতে পারে না। আলোকিত আগামীর জন্য শিশুকে সময় দিন। তাকে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার শিক্ষা দিন। সূত্র: যুগান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.