শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ স্মরণে কুরআনাখানী ও দোয়া মাহফিল

দেশের খবর সংবাদ হক কথা

হক কথা:গতকাল মকঙ্গলবার দুপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অধিনে মডেল ও সাধারন কেয়ারটেকার কর্তৃক বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব প্লাজায় শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ স্মরণে কুরআনাখানী ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়ার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জনাব মুহাঃ মহিউদ্দীন মজুমদার- পরিচালক সমন্বয় বিভাগ, জনাব তওহিদুল আনোয়ার-
পরিচালক:ঢাকা বিভাগীয় কার্যালায়। জনাব আনিসুর রহমান সরকার- পরিচালক:দ্বিনী দাওয়াহ বিভাগ। জনাব আবুল কাসেম মজুমদার-পরিচালক:লাইব্রেরী,বাইতুল মুকাররম। জানাব মুহাঃ হারিস সিনহা- উপ পরিচালক ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় । জনাব হাবীবুর রহমান – ফিল্ড অফিসার: ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় ।

ঢাকার বিভিন্ন জোন থেকে কেন্ত্রশিক্ষক ও ইমাম ওলামাগন সকাল ১০টা থেকেই বাইতুল মোকাররমের পূর্ব প্লাজায় জড়ো হয়ে পবিত্র কুরআনের খতম করতে থাকেন। উদ্বোধনী তেলাওয়াত করেন বাড্ডা জোনের মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক মুফতি হাফিজুর রহমার রাহমানী। পবিত্র কুরআন খতম শেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শেখ আব্দুল্লাহ রহঃ এর কর্মময় জীবনী সংক্ষিপ্ত আকারে আলোকপাত করেন। তার জীবনের স্মৃতি মন্থন করে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ফিল্ড অফিসার হাবিবুর রহমানের আবেগঘন আলোচনা আর কান্না বিজড়িত স্মৃতিচারণে এক শোকাবহ পরিবেশের তৈরী হয় বাইতুল মোকাররমের পূর্বপ্লাজা।

শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ রহঃ এর ত্যাগ-তিতীক্ষা, ধর্মীয় অনুরাগ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা ও অবদানের কথা স্মরণ করেন বক্তাগন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অফ গভর্ণর হওয়া থেকে শুরু করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হওয়া পর্যন্ত তার অবদান ব্যাখ্যা কারেন বক্তাগন।

বক্তাগন বলেন, সদা হাস্যোজ্জল, মিশুক ও কর্মমুখী মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি একজন কুরআনে হাফেজ ছিলেন। তিনি ছিলেন আলেম বান্ধব একজন অনন্য ব্যক্তি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে অপশক্তি অপসারণে তার ভুমিকা ছিল উল্লেখ কারার মতো। বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদকে এশিয়ার অন্যতম সৌন্দর্য্যমন্ডিত মসজিদে পরিণত কারার স্বপ্ন ছিল তার। সরকারের সাথে দেশের বিজ্ঞ ওলামায়ে কিরামের সাথে সমন্বয়ে তার ভুমিকা ছিল প্রধান। নিজের সাথে বিভিন্ন শ্রেণীর প্রায় ষাটজন আলেমকে হজে নিয়ে গিয়ে এক অনন্য নজির তৈরী করেছেন তিনি। কওমী মাদরাসা সনদের স্বীকৃতিসহ ওলামায়ে কিরামের দুঃখ বেদনা বুঝে তার সমাধানে তিনি ছিলেন অতুলনীয় প্রধান ব্যক্তি।

মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গন শিক্ষা কার্যক্রম যখন আউটসোর্সিং এর আওয়তায় চলে যাওয়ার পথে; তখন লক্ষ আলেমের বক্ষে থাকা হৃদয়ের আরজী তার হৃদয়কে বিদগ্ধ করে তোলে। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট উপস্থাপনে আসার আগে টুঙ্গি পাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের করবর জিয়ারতে যাবেন শুনে শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আগেই সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন। নিজ বাড়িতে অর্থমন্ত্রীকে দাওয়াত করেন। খাওয়ার টেবিলে আলোচনা তোলেন গনশিক্ষা কার্যক্রমের। বড় ভাইতুল্য ধর্ম প্রতিমন্ত্রির আবদার ফেলতে পারলেন না অর্থ মন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রী আস্বাস দেন এই কার্যক্রম আউটসোর্সিংএ দিবেন না। নাস্তা সেরে দুজনেই শেখ মুজির রহমানের কবর জিয়ারতে যান । জিয়ারত শেষে অর্থমন্ত্রীকে বললেন, যিনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা তার সামনের দাড়িয়ে কথা দেন আপনি এই প্রকল্প আউটসোর্সিং এ দিবেন না। দেশের ওলামাদের প্রতি তার এই অনুরাগ দেখে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বঙ্গবন্ধুর কবরের পাশে দাড়িয়েই এই প্রকল্প আউট সোর্সিং এ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।

নিজেকে এভাবে উৎস্বর্গ করায় দেশবাসী ও ওলামায়েকিরামের হৃদয়ের গহিনে ভালবাসার রাজত্ব তৈরী করেন তিনি। তার মৃত্যুতে সকলেই গভীর শোক প্রকাশ করেন। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কানা করে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় শেখ মুহাম্মদ আবদুল্লাহ স্মরণে কুরআনা খানী ও দোয়া মাহফিল আয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.