স্কুল লাইফ বনাম ভার্সিটি লাইফের পরীক্ষা

বিনোদন মজার গল্প

স্কুল লাইফে পড়াশোনায় আমরা মোটামুটি সিরিয়াস থাকলেও ভার্সিটি লাইফে এসে একটু একটু করে বদলাতে শুরু করি।

কেউ কেউ অবশ্য ভার্সিটি লাইফেও পড়াশোনায় পূর্বের মনোযোগটুকু ধরে রাখলেও অনেকেই সারা বছর গায়ে হাওয়া লাড়িয়ে বেড়ায়।

পরীক্ষার দু’একদিন আগে সিরিয়াস বন্ধুদের কাছে ছুটতে থাকে বই-নোটের জন্য। সবমিলিয়ে স্কুল লাইফ এবং ভার্সিটি লাইফের পরীক্ষার পার্থক্য জানাচ্ছেন- মুহিত আহমেদ জামিল

স্কুল লাইফ: পরীক্ষার আর মাত্র এক মাস বাকি। এ সময় নতুন কিছু পড়া ঠিক হবে না। বরং আগের পড়া বিষয়গুলোই ভালো করে রিভিশন দিই।

ভার্সিটি লাইফ: রাত মাত্র বারোটা বাজে। পরীক্ষা তো সকালে। যাই ১১, ১৩, ১৫ নম্বর চ্যাপ্টারটা একপলকে একটু পড়ে নিই। এতগুলো চ্যাপ্টার একবারো না পড়ে পরীক্ষায় যাওয়াটা ঠিক হবে না!

স্কুল লাইফ: ২০২০ সালের জুন মাস চলছে। পরীক্ষা তো ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। তার মানে সময় আর বেশি নাই। যাই পরীক্ষার রুটিন নিয়ে এনালাইসিসটা সেরে আসি।

ভার্সিটি লাইফ (পরীক্ষার আগের রাতে বন্ধুকে ফোন করে) : হ্যালো দোস্ত, কালকে কী পরীক্ষা যেন?

স্কুল লাইফ (মা তার সন্তানকে বলছেন): পুরনো গাইড বই সব জোগাড় করে ফেলেছি। বেকার সময় নষ্ট করিস না। এখন থেকেই আস্তে আস্তে পড়া শুরু করে দে। সায়েন্স তো সহজ না অত।

মেয়ে: মা, কী বলছ এসব! মাত্র জেএসসি পরীক্ষা শেষ হল!

ভার্সিটি লাইফ (পরীক্ষার আগের রাতে): আশ্চর্য ব্যাপার! বইটা তো এখানেই থাকার কথা। খুঁজে পাচ্ছি না কেন? ওহ, শিট! এই বই তো কেনাই হয়নি!

স্কুল লাইফ (মা তার ছেলেকে বলছেন): বাবা, টেবিলে ডিম আর এক গ্লাস দুধ রাখা আছে, খেয়ে পরীক্ষা দিতে যা।

ছেলে: না মা, ডিম খেয়ে গেলে পরীক্ষাতেও ডিম পাব!

ভার্সিটি লাইফ: মেসে তো খাওয়ার কিছুই নাই! একটা ডিম ভাজি করে খেয়ে পরীক্ষা দিতে যাই। ধ্যাত! ডিম ভাজি করতে তো পেঁয়াজ লাগে। এখন এত দামি জিনিস পাব কই! তারচেয়ে সিদ্ধ করেই এক গ্লাস পানি দিয়ে খেয়ে ফেলি।

স্কুল লাইফ: সব কিছু বেশি বেশি করে নেয়া দরকার। কম নিলে পরীক্ষার হলে হঠাৎ নষ্ট হয়ে গেলে বিপদে পড়ব। থাক বাবা, ঝুঁকি নেয়ার দরকার নাই। কলম এই পাঁচটা থাকুক, স্কেল দুইটা, রাবার দুইটা, কাটার দুইটা, পেন্সিল তিনটা…

ভার্সিটি লাইফ (পরীক্ষার হলে বসে পাশের বন্ধুকে): দোস্ত, একটা কলম দে তো।

স্কুল লাইফ: পরীক্ষার খাতা হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুন্দর করে মার্জিন টানা জরুরি। মার্জিন খাতার সৌন্দর্য বাড়ায়।

ভার্সিটি লাইফ: মার্জিন টেনে হুদাই কষ্ট করার কোনো মানে হয় না। মার্জিনের মতো করে খাতায় একটা ভাঁজ দিলেই হয়। সূত্রঃ যুগান্তর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.