হযরত আদম (আঃ) এর আগে দুনিয়ায় কি ছিল?

আমাদের ইসলাম হক কথা

আমাদের সাথে যুক্ত হতে ডাউনলোড করুন আমাদের হক কথা এ্যাপ:App Link- http://bit.ly/app_haquekotha

সুপ্রিয় সুধীবৃন্ধ আসসালামু আলাইকুম, আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)।তিনি দুনিয়ায় আগমনের আগে এ দুনিয়ায় কি ছিল তা জানার জন্য অনেকের আগ্রহ রয়েছে।আল্লাহ তায়ালা সুরা হুদের ৭ নং আয়াতে এরশাদ করেনوَهُوَ الَّذِي خَلَق السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاء তিনিই আসমান ও যমীন ছয় দিনে তৈরী করেছেন, তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে, [ সুরা হুদ ১১:৭ ]ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) আবু রাজিন আকীলী সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি নবীজিকে প্রশ্ন করেছিলেন হে রসুল (সঃ) আসমান ও জমিন সৃষ্টির আগে আমাদের পরোওয়ার দেগার কোথায় ছিলেন? তিনি বলেন আমাতে ছিলেন অথ্যাৎ তখন আল্লাহ ছাড়া আর কিছুই ছিল না, তার উপরও শুণ্য তার নিচেও শুণ্য।মোটকথা তখন কিছুই ছিল না।তিনি পানির উপর তার আরশ তৈরি করলেন। মুলত এটাই ছিল মখলুকের প্রথম অবস্থা। ইমাম আহমদ ইমাম তিরমিযি ইমাম আবুদ দাউদ এবং আরো অনেক মোহাদ্দিসিনে কেরাম গন হযরত ওবাদা বিন ছামেত (রাঃ) এর হাদীস বর্ণনা করেন, তিনি বলেন (সামিতু রাসুলাল্লাহি ছা.. এয়াকুল ইন্না আউয়্যালা মা খালাকাল্লাহু তাবারাকা ওয়তায়ালা আল ক্বালাম ছুম্মা ক্বালা লাহু উকতুব ফাজারা ফি তিলকাসচছায়াতি বিমা হুয়া কাইনুন ইলা এয়াউমিল কিয়ামাহ ) আমি রাসুলে আকরাম (দঃ) কে বর্ণনা করতে শুনেছি তিনি ফরমান বিনা সন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে প্রথমে কলমকে সৃষ্টি করেছেন।এবং আল্লাহ তায়ালা কলমকে হকুম দিলেন লিখ।আর কলম তখন চালু হয়ে গেল এবং কেয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে সবকিছু লিখে দিল।এসব ছিল আল্লাহ তায়ালার এলম।এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় সর্বপ্রথম সৃষ্টি হল কলমজমহুর ওলামায়ে কেরাম এর অভিমত হল সর্বপ্রথম সৃষ্টি হল আরশ। তাদের দলিল হল ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) বলেন, আমি রসুলুল্লাহ (দঃ) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগে তকদীর লিপিবদ্ধ করেন। তখন তার আরশ ছিল পানির উপর।এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় প্রথমত পানি আর তার উপর আরশ এরপর কলমকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন।যে হাদীস দ্বারা সবপ্রথম কলম সৃষ্টির কথা প্রমাণিত হয় তার অর্থ হল কলম এ জগতের সৃষ্টিসমুহের মধ্যে প্রথম। এ ব্যপারে বুখারী শরীফের এ হাদীসখানা প্রনিধানযোগ্য। হযরত ইবরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) বলেনঃ ইয়ামানের কিছু লোক রসুলুল্লাহ (দঃ) কে বলল, আমরা সৃষ্টি জগতের সুচনা সম্পর্কে জানতে এসেছি। তখন রসুলুল্লাহ (দঃ) এরশাদ করেন, সবপ্রথম আল্লাহ ছিলেন তাঁর আগে কিছুই ছিল না।এবং তার আরশ ছিল পানির উপর, এরপর লওহে মাহফুজে সবকিছু লিখে দিলেন, এরপর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেন।ইবন জরির মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন- তিনি বলেন- আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হল আলো-অন্ধকার।কেউ কেউ বলেন আল্লাহ তায়ালা কলমের পর কুরসিকে সৃষ্টি করেছেন। কুরসির পর আরশ, তারপর মহাশূণ্য ও আঁধার, তারপর পানি,হযরত আবদুল কাদের জিলানি (রহঃ) এর প্রসিদ্ধ কিতাব সিররুল আসরারে হাদীসে কুদসী নকল করেন যাতে বলা হয়েছে আল্লাহ তায়ালা বলেন- আমি সর্বপ্রথম নুর দ্বারা মুহাম্মদ (দঃ) এর রুহ সৃষ্টি করেছি। মেরকাত শরহে মেশকাত কিতাবে (১/৮৯) মোল্লা আলী ক্বারী (আলাইহির রাহমাহ) একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন— রাসূল (সা) এরশাদ করেছেন, আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আমার রূহ সৃষ্টি করেছেন”। মেরকাত শরহে মেশকাত কিতাবে (১/৮৯) মোল্লা আলী ক্বারী (আলাইহির রাহমাহ) একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন— আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন”। জমহুর ওলামায়ে কেরাম এর মতামতগুলি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করলাম।বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুসারে যে ছয় দিনে জগৎ সৃষ্টি করা হয়েছে, তা রবিবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার। শনিবারে জগৎ সৃষ্টির কাজ করা হয়নি। এ ছয় দিনের কার্যাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সুরা হা-মিম সিজদার নবম ও দশম আয়াতে রয়েছে। রবি ও সোমবার- এ দুই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করা হয়েছে। মঙ্গল ও বুধবার ভূমণ্ডলের সাজসরঞ্জাম- পাহাড়, নদী, খনি, বৃক্ষ, সৃষ্টজীবের পানাহারের বস্তু সৃষ্টি করা হয়েছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার সাত আকাশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এক রেওয়ায়েতে আছে আল্লাহ তায়ালা শনিবার মাটি সৃষ্টি করেন, রবিবার জমিনে পাহাড়, সোমবার গাছপালা, মঙ্গলবার বিপদ আপদ মসিবত রোগ ব্যধী, বুধবার নুর, বৃহস্পতিবার জমিনে চতুষ্পদ জন্তুতে ছেড়ে দিলেন, আর শুক্রবার আছর থেকে মাগরিবের আগে হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করেন। এ থেকে বুঝা যায় সৃষ্টির মধ্যে শেষ সৃষ্টী হল আদম (আঃ)।মানব জাতি সৃষ্টির আগে ফেরেশতা ও জিন সৃষ্টি হয়েছিল, আকলদার সৃষ্টির মধ্যে প্রথম নম্বর হল ফেরেশতা, ২য় নম্বর হল জিনদের আর শেষ নম্বর হল মানুষজাতির।েএ ব্যপারে সুরা হিজরের ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে রয়েছেوَلَقَدْ خَلَقْنَا الإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍআমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। [ সুরা হিজর ১৫:২৬ ]وَالْجَآنَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِএবং জিনকে এর আগে লু এর আগুনের দ্বারা সৃজিত করেছি। [ সুরা হিজর ১৫:২৭ ]মুলত আদম (আঃ) এর ২ হাজার বছর আগে আল্লাহ তায়ালা জিন জাতি সৃষ্টি করেছেন তারা এ দুনিয়ায় বসবাস করত কিন্তু বিভিন্ন ফিতনা ফাসাদের ফলে তাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের এক বিশাল বাহিনি প্রেরণ করেন, ফেরেশতারা জিনদের জবরদশ মারপিট করেন, আর এতে জিনজাতি বন জঙ্গল ও সমুদ্রে আশ্রয় গ্রহন করে। পৃথিবীর জমিনের সকল জনপদ থেকে তাদেরকে বের করে দেয়া হল। আর এ ঘটনা হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির আগেই সংগঠিত হয়। হযরত আদম (আঃ) এর সৃষ্টির প্রথমে এ পযন্তই বননা পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.