২১ আমাদের, আমরা ২১এর

আমাদের ইসলাম ইতিহাস সংবাদ হক কথা

মাতৃভাষা, মানুষ যে ভাষায় কথা বলতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী, যে ভাষাটি সে তার পিতামাতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে ছোটবেলায় শিখেছে ও ভাষাটি যে অঞ্চলে বহুল প্রচলিত, সে অঞ্চলের মানুষের মতই ভাষাটিতে কথা বলতে সক্ষম, তাকে সাধারণভাবে মাতৃভাষা বলা হয়।

মাতৃভাষা আল্লাহর সেরা দান- যে সত্ত্বা মানুষ বানিয়েছেন, তিনিই তাদের রসনায় দিয়েছেন ভাষা। ভাষা মানুষে-মানুষে যোগাযোগের প্রধানতম বাহন। রসনাকে কেন্দ্র করে বাকযন্ত্র ৫টি- ১. কন্ঠনালী, ২. জিহ্বা, ৩. মুখের ভিতরের খালি জায়গা, ৪.দুই ঠোট ৫. নাকের বাঁশি। মানুষ ছাড়া অন্য প্রানীর বাক যন্ত্র থাকা সত্বেও তাদের মুখে ভাষা নেই। অনেক মানুষের মুখেও ভাষা নেই। মুখে ভাষাতৈরী হ্ওয়ার জন্য প্রয়োজন ছিফাত বা ভঙ্গির।আল্লাহ পাক যার মুখে ছিফাত দিয়েছেন সে-ই ভাষার অধিকারী। সুতরাং ভাষা আল্লাহ তায়ালা সেরা উপহার।

ভাষা আল্লাহর একটি নিদর্শন– বর্ন ও ভাষা বৈচিত্র আল্লাহ পাকের বিশেষ নিদর্শন।সূরায়ে রুম এর ২২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন- ভূ-মন্ডল ও নভোমন্ডল এর সৃষ্টি, শরীরের বর্ন ও ভাষাবৈচিত্র এর মাঝে রয়েছে জ্ঞানীদের জন্য আল্লাহকে চেনা ও বুঝার নিদর্শন। বাংলা, ইংরেজী, আরবী, উর্দু , ফার্সীসহ পৃথিবীতে দুই হাজারের বেশী ভাষা রয়েছে।

ভাষা আন্দোলন- অবিভক্ত পাকিস্তানে দুইটি ভাষা প্রচলন ছিল-বাংলা,উর্দু। পশ্চিম পাকিস্তানীরা পূর্বপাকিস্তানী বাংলাভাষীদের উপর গায়ের জোড়ে উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়।সচেতন বাংঙ্গালীরা মাতৃভাষা রক্খার আন্দোলনে রাজ পথে নেমে আসে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের সাথে সাধারন লোক একত্রিত হয়ে কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলে বাংঙ্গালীরা।১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী মোতাবেক ৮ই ফল্গুন এই আন্দোলনে শহীদ হন- সালাম, রফিক, বরকত, জাব্বার। তাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয় বাংলা ভাষা। ইতিহাস হয়ে যায় বিশ্ব ব্যাপী। মাতৃভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এক মাত্র বাঙ্গালী জাতি।

ভাষার মান- পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষা হলো আরবী।নবী আঃ বলেন, আমি আরবী ভাষার লোক, কবরের ভাষা আরবী, আল্লাহর ভাষা আরবী, কুরআনের ভাষা আরবী তািই তোমরা আরবী ভাষা শিক্ষা করো। ইংরেজদের অপকমের্র কারনে ভারত র্বষের ওলামায়েকিরাম ইংরেজীকে নাজায়েজ ফতোয়া দিয়ে ছিলেন, তবে ক্রমেই এই ভাষা আন্তর্জাতিক মান পেয়েছে। সকল ভাষাই আল্লাহর পাকের দান এই হিসেবে নবী আঃ মাতৃভাষা ছাড়াও প্রয়োজনীয় অন্যভাষা শিখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

ভাষার প্রভাব- যে ব্যক্তি মাতৃভাষার ফাঁকে ফাঁকে আরবী ব্যবহার করে- তার ভিতরে খোদাভীরুতা স্থান করে নেয়। উর্দু ব্যবহার কারীর ভিতরে ইলেমএর ভক্তি জায়গা করে নেয়।ইংরেজী ব্যবহার করলে দুনিয়ার লোভ এবং অহংকার স্থান করে নেয়। মাতৃভাষাকে শুদ্ধ করলে দেশপ্রেম এবং সাহিত্য জায়গা করে নেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.