‍মাওলানা গিয়াস উদ্দিন রহ.এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

হক্কানী ওলামাদের ইতিহাস

নাজমুল নাঈম

ভূমিকাঃ দ্বীনে ইসলামের উজ্জ্বল নক্ষত্রশোভিত আকাশে জাজ্জ্বল্যমান ক’জন নক্ষত্র যাদের বহুমুখী খেদমত ও ইনসানিয়াতের মর্মবাণী প্রতিষ্ঠার অক্লান্ত শ্রম ও সাধনা ভূ-পৃষ্ঠকে বাতিলের হিংস্র থাবা ও দস্তনখর করেছে। সেসব মহামনীষীদের শান্তির মহামিছিলের এক অগ্রসৈনিক আলহাজ্ব হযরত মাওলানা গিয়াস উদ্দীন সাহেব রহ. তিনি দেশের একজন আলোচিত ও সংগ্রামী আলেম ছিলেন। তিনি ছিলেন এ জামিয়া ইসলামিয়া মিফতাহুল উলূম মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম। এ ছাড়াও বহু মাদরাসা মসজিদ,সামাজিক,রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। নিম্নে তার পরিচিতি ও বহুমুখী খেদমত সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলো।

জন্ম ও বাল্যকালঃ ১৯২৯ সনের ১৭ নভেম্বর, সোমবার ঢাকা জেলাধীন বাড্ডা থানার অর্ন্তগত মধ্যবাড্ডা { মোল্লা পাড়ায় } জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা তেজগাঁও প্রাইমারী স্কুলে সমাপন করেন। এরপর ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া আশরাফুল উলূম বড়কাটারা মাদরাসায় ইবতেদায়ী থেকে শরহেজামী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন।

দরস তাদরীসে হযরতের সোনালী অধ্যায়ঃ
১৯৫৭ সালে দারুল উলূম দেওবন্দে অবস্থানকালেই নিজ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জমিদাতাগণ আজকের এই ঐতিহ্যবাহী মাদরাসার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জমিদান কওে হযরতকে মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত করেন এবং স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আহবান জানান। তিনি তাদের উদাত্ত আহবানে কালবিলম্ব না করে ইলমে নববীর এই বসুন্ধারা প্রতিষ্ঠা করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন এবং ইলমে নববীর এই আলোকচ্ছাটাকে দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেয়ার মানসে ১৯৬২ সনে প্রতিষ্ঠা করেন এক কোরআনী শিক্ষালয়। হযরতের ঘামঝরা পরিশ্রম ও বিরামহীন প্রচেষ্টায় এবং এলাকাবাসির সার্বিক সহযোগিতায় তার বহুদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে গড়ে তোলেন আজকের এই ঐতিহ্যবাহী জামিয়া।

একাডেমিক খিদমতঃ জামিয়া ইসলামিয়া মিফতাহুল উলূম-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহতামিম হওয়ার পাশাপাশি এলাকার অর্ধশতাধিক মসজিদ ও বহু মাদরাসার অভিভাবক ও প্রধান দিক নির্দেশকের ভূমিকা নিষ্ঠার সাথে পালন করেছিলেন।

তাসাউফ ও আধ্যাত্মিকতাঃ দিনের বেলায় অশ্বরোহী সৈনিক রাতের বেলায় খোদাপ্রেমে প্রকম্পিত বান্দা এই ছিল সাহাবায়ে কেরামের চরিত্র। হযরতের বেলায় এ কথাটির প্রয়োগ নিঃসংশয়ে যথাযথ।
১৯৬৫ সালে শায়খুল আরব ওয়াল আযম সায়্যিদ হোসাইন আহমাদ মাদানী রহ. এর হাতে বায়াত গস্খহণ করেন। সায়্যিদ মাদানী রহ. এর ফয়েজ ও বরকতে তিনি আধ্যাত্মিকতার অনেক উচ্চস্তওে পৌঁঁছতে সক্ষম হন।

দরসের মসনদে দীর্ঘকালঃ এই ঐতিহ্যবাহী জামিয়ার উষাকাল থেকে মৃত্যু অবধি সফলতার সাথে তিনি দরস দিয়েছিলেন। এরই ফলপ্রসুতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তারই হাতে গড়া বহু শাগরিদ দ্বীনের বহুমুখী খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

মৃত্যুকালঃ মহান সাধক ২৯ মার্চ ২০০৯, রবিবার, রাত ৮:৩০ মিনিটে এই ধরার মায়া ত্যাগ করে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.